টাঙ্গাইলে সিদ্দিকী পরিবারের সেই দাপট এখন আর নেই

শেয়ার করুন

জাহিদ হাসান ॥
বিগত ১৯৬৪-৬৫ সালে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী করটিয়া সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি নির্বাচিত হন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রলীগের লড়াকু সৈনিকের ভূমিকায় থাকার সুবাদে সত্তরের নির্বাচনে টাঙ্গাইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাত্তরে দেশমাতৃকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে আওয়ামী লীগের টিকিটে ১৯৭৩, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এমপি হন লতিফ সিদ্দিকী। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জায়গা দখল করে নেন। এভাবে টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে প্রতাপশালীতে পরিণত হন সিদ্দিকী পরিবারের এই দুই ভাই।
বিগত ’৯৯ সালে বঙ্গবন্ধুর দল ত্যাগ করে কাদের সিদ্দিকী ‘কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ’ গঠন করেন। এরপর ‘গামছা’ প্রতীকে বিগত ২০০১ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে এমপি নির্বাচিত হয়ে উত্তাপ ছড়ান জাতীয় সংসদে। বিগত ২০০৯ সালের পর ক্ষমতায় না থেকেও টাঙ্গাইলসহ জাতীয় রাজনীতিতে আলোচিত নাম ছিল সেই বাঘা কাদের সিদ্দিকীর। সিদ্দিকী পরিবারের কথায় চলত টাঙ্গাইলের রাজনীতি। কিন্তু বর্তমানে উল্টো চিত্র বিরাজ করছে। হজ ও মহানবীকে নিয়ে কটূক্তি করে লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য পদ, মন্ত্রিত্ব থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সদস্য পদও হারিয়েছেন। প্রায় ১০ বছর সংসদের বাইরে আছেন কাদের সিদ্দিকী। এই পরিস্থিতিতে টাঙ্গাইলের বর্ণাঢ্য রাজনীতিতে এখন দৈশ্যদশায় সিদ্দিকী পরিবার।
টাঙ্গাইলের পেশাজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের ভাষায় সিদ্দিকী পরিবার এখন রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অস্তিত্ব হারানোর পথে। গামছা প্রতীকের কোনো সভা-সমাবেশও নেই। আগে রাজনীতিতে ৮০ ভাগ লোক ছিল সিদ্দিকী পরিবারের। টাঙ্গাইলের মুজিব সমর্থকরা যেখানে সিদ্দিকী পরিবারের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে রাজনীতি করতেন। এখন কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী উল্টো স্রোতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের গা ঘেঁষে রাজনীতিতে টিকে থাকার প্রয়াস চালাচ্ছেন। নিজ ব্যক্তি ইমেজে মুরাদ সিদ্দিকী সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বারবার পরাজিত হচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের সময় ছাড়া টাঙ্গাইলের রাজনীতেতে তিনি তেমন একটা সাংগঠনিকভাবে নিজেকে যুক্ত করতে দেখা যায় না। এদের ছোট ভাই আজাদ সিদ্দিকী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের রাজনীতি করছেন। তবে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ই শুধু সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এছাড়া তাকে ততটা সক্রিয় দেয়া যায় না টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে। এতেই সিদ্দিকী পরিবারের রাজনীতির দীনতা প্রমাণ পায়। এক সময়ের প্রভাবশালী কাদের সিদ্দিকী এখন টাঙ্গাইল শহরে গেলেও আগের মতো নেতাকর্মী তার কাছে ঘেঁষে না।
জানা গেছে, টাঙ্গাইলে বর্তমানে আলোচিত তানভীর হাসান ছোট মনি এমপি ও তার বড় ভাই গোলাম কিবরিরা বড়মনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন বর্তমান টাঙ্গাইলের রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়। এই তিনজন এখন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। বর্তমানে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকীর অবস্থান ঢাকায়ই বেশি। তবে কাদের সিদ্দিকী কালে-ভদ্রে টাঙ্গাইলে ‘সোনার বাংলা’ বাসভবনে আসা-যাওয়া করলেও একাধিক মামলা জনিত কারণে লতিফ সিদ্দিকীর দেখা নেই। জাতীয় সংসদের ৮টি আসন হলো টাঙ্গাইল জেলায়। কিন্তু মূল রাজনীতি জেলা শহরকেন্দ্রিক।
প্রবীণ রাজনীতিবিদরা এ ব্যাপারে টিনিউজকে বলেন, পৃথিবীতে কোনোকালে কোনো রাজনৈতিক পরিবার একাধারে তাদের সাম্রাজ টিকিয়ে রাখতে পারেনি। জনগনের ভাষা না বুঝলে ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা না থাকলে সেই রাজনৈতিক পরিবারের পতন হবেই। এটা ইতিহাসের স্বাক্ষী। যা টাঙ্গাইলে সিদ্দিকী পরিবারের হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ