সখীপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনে নানা অভিযোগ

103

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ভুয়া পর্চা, জাল নামজারি, দাখিলা দিয়ে খাসজমি নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে। জাল দলিলে কয়েকশ একর খাসজমি অসাধু ব্যক্তিদের দখলে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব দলিল নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, গত (২১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কালমেঘা গ্রামের আবদুল আলী তালেপাবাদ কালমেঘা মৌজার খাস ও বন বিভাগের এসএ ৪৪৭৫, ৪৪৭৮, ৪৫০২ এবং ৪৫১৬ দাগের ২০ দশমিক ২ একর জমি ঢাকার গুলশানের ব্যবসায়ী বাবুল আক্তার মন্টুর কাছে অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি মূলে বিক্রি করেন। যার দলিল নং- ৩০৯৯। আবদুল আলীর মা আছিয়া বর্তমানে জীবিত থাকলেও ওই দলিলে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। আবদুল আলী বিগত ১৯৮৩ সালের ১৯৬৩নং দলিলের দাতা আব্দুল লতিফের স্থলে মা আছিয়া বেগম ও গ্রহীতা ইছহাকের স্থলে ‘আবদুল আলী’ নিজে দাতা হয়ে হেবা দলিল দেখিয়ে জমির মালিক সেজেছেন। ১৯৬৩নং দলিলে গ্রহীতা ইছহাকের দলিলে জমির পরিমাণ ১৮ শতাংশ উল্লেখ থাকলেও আবদুল আলীর ব্যবহূত একই তারিখ ও নম্বরের দলিলে জমির পরিমাণ ১৮ একর দেখানো হয়েছে। ব্যবহূত দলিলে জমির মৌজার নাম কালিয়া, কিন্তু ৩০৯৯নং দলিলের দাগ তালেপাবাদ কালমেঘা মৌজায়।
আবদুল আলী সাংবাদিকদের জানান, ব্যাংকে ঋণ তোলা সাপেক্ষে ঢাকার বাবুল মন্টু তার কাছ থেকে ২০ একর ২ শতাংশ জমি অফেরতযোগ্য আমমোক্তারনামা রেজিস্ট্রি দলিল করে নিয়েছেন। ধার্যকৃত তিন কোটি টাকার মধ্যে তিনি মাত্র তিন লাখ পেয়েছেন। তিনি কামরুল ইসলামের কথায় দলিল নিবন্ধন করে দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। দলিল লেখক মমিনুর রহমান দাবি করেন, তিনি ওই দলিলে স্বাক্ষর করা ছাড়া আর কিছুই জানেন না। যাদরপুর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাকছুদুজ্জামান বলেন, সরকারি স্বার্থ-সংশ্নিষ্ট থাকায় তালেপাবাদ কালমেঘা মৌজার অভিযুক্ত দাগগুলোতে কোনো নামজারি ও দাখিলা দিইনি। জমিগ্রহীতা বাবুল আক্তার মন্টু দাবি করেন, তিনি জমির প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঠিক জেনেই রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলটি নিবন্ধন করেছেন।
হতেয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আলাল খান সাংবাদিকদের বলেন, ওই দলিলের দাগ নম্বরগুলো বনের গেজেটভুক্ত জায়গা। এসব জমি বিক্রি করা অবৈধ।
স্থানীয় ভূমি মালিক আবদুল জলিল সাংবাদিকদের জানান, কালমেঘা গ্রামের একটি সক্রিয় দালালচক্র ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে দলিল বানিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ বিষয়ে সখীপুরের সাব-রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান খান অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি দলিল নিবন্ধন শেষ করতে সব কাগজপত্রের সঠিকতা প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। তবে তিনি হাল দাখিলা না দেখে দলিল নিবন্ধন করেন না বলে দাবি করেন।
সখীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা সাংবাদিকদের জানান, নিবন্ধন নীতিমালা ২০১৪ অনুযায়ী যে কোনো দলিল নিবন্ধনে হস্তান্তরের আগে দলিল দাতার সর্বশেষ প্রস্তুতকৃত রেকর্ড, খতিয়ান ও সরকারের স্বার্থ জড়িত নেই মর্মে হলফনামা- এই তিনটির কোনো তোয়াক্কা না করে নির্বিচারে সরকারের জমি ব্যক্তির নামে দলিল রেজিস্ট্রেশন করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী সাংবাদিকদের জানান, এসব ভূমির নামজারি ও খাজনা নেওয়া হয় না। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রার কীভাবে দলিল করেছেন তা তার জানা নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ