সখীপুরে পায়ুপথ না থাকা শিশুকে বাঁচাতে অসহায় পরিবারের আকুতি

451

সখীপুর প্রতিনিধি ॥
ভ্যানচালক আকাশ ও পান্না বেগমের আগের ৬ বছরের নুসরাত নামে একটি শিশু কন্যা আছে। পরে এই অসহায় দরিদ্র দম্পতির কোল জুড়ে আসে হাসান নামের একটি ছেলে সন্তান। এবারের বাচ্চা নিয়ে তাই দরিদ্র এই পরিবার উচ্ছসিত ছিল একটু বেশিই। কিন্তু সন্তান জন্ম নেয়ার পরে শারীরিক সমস্যা ও দরিদ্রতার সাথে সাথে অসহায় হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।
শনিবার (২৮ মে) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেতুয়া গ্রামে ভ্যান চালক আকাশের বাড়িতে গেলে কান্নাজড়িত কন্ঠে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন এই প্রতিবেদকের কাছে। দেশবাসীর কাছে ।
গত ২০২০ সালে ভ্যান চালক আকাশ ও পান্না বেগমের ঔরসে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে শিশু। বাড়িতে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় বাচ্চাটি। কিন্তু জন্মেরপরে বাচ্চাকে দেখে অবাক হয়ে যায় সবাই, কারণ বাচ্চাটির পায়ুপথ নেই। পরে বাচ্চাটিকে নিয়ে ছুটে যান ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালে। বিভিন্ন হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা লাগবে জেনে ফিরে আসেন বাড়িতে। পরে অনেক কষ্ট করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে এ পর্যন্ত পাঁচটি অপারেশন হয়েছে এবং আরো কয়েকটি অপারেশন করাতে হবে বলে জানান ভ্যানচালক আকাশ। আর এ পর্যন্ত চিকিৎসা করাতে গিয়ে কয়েক লাখ টাকা ঋণ গ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এই অসহায় পরিবারটি।
চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাচ্চাটির যে সমস্যা আছে, সেক্ষেত্রে বিশেষায়িত কোন হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। এধরনের চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে হয়ে থাকে। শিশু সার্জারি চিকিৎসকরাই ভাল বলতে পারবেন। প্রসাব পায়খানার রাস্তা না থাকলে বেশ কয়েকটি সার্জারি করতে হবে, এই চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুলও বটে।
শিশুটির বাবা আকাশ টিনিউজকে বলেন, আমি একজন অসহায় পিতা। বাচ্চাটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেক টাকা ঋণ করে ফেলেছি। দুই বছর ধরে পায়খানার রাস্তা ছাড়া বাচ্চাটিকে নিয়ে কিভাবে বেঁচে আছি তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। পেট দিয়ে আমার বাচ্চাটির ছিদ্র করে দিছে, আর এভাবেই অনেক কষ্ট করে বাচ্চাটি বেঁচে আছে। নিজের বাচ্চার এমন কষ্ট দেখে অনেক কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি।
শিশুটির মা কান্নজাড়িত কন্ঠে টিনিউজকে বলেন, বাচ্চাকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে আপনাদের দুয়ারে আসছি, বাঁচা-মরা আল্লাহর হাতে, আমার বাচ্চাটার চিকিৎসা যাতে করাতে পারি, সেই ব্যবস্থাটা যদি আপানারা দশজনে করে দেন তবে আমি সারাজীবন আপনাদের কৃতজ্ঞ থাকবো।
শিশুটির দাদী আঙ্গুরী বেগম টিনিউজকে জানান, তার ছেলে রিকশা চালায়। এই দিয়ে যা আয় হয়, তাতে কোন রকম সংসার চলে। আমিও দরিদ্র মানুষ। ঠিকমত খাওয়া দাওয়াই চলে না, এই শিশুর চিকিৎসা করাব কিভাবে? আমাদের পক্ষে এই শিশুর চিকিৎসা করানো সম্ভব না। দেশের দশজন যদি সাহায্য করে, তাহলে হয়ত আমার নাতিটার চিকিৎসা হবে। আমি দেশের মানুষের কাছে নাতিটাকে বাঁচানোর জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
কোনো সামর্থবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতা করতে চাইলে শিশুটির বাবার ০১৮৮৭-৭০৪৪৭৯ (বিকাশ) নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

ব্রেকিং নিউজঃ