মির্জাপুর উপনির্বাচনে বিএনপি কাউকে সমর্থন দেয়ার দল না- বিএনপির সাবেক এমপি

327

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর ॥
বিএনপির ভোটে জয়ের আশা করছেন জাতীয় পার্টি। বিএনপির প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে ভোট দিবেন বলে জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থকরা জানিয়েছেন। এদিকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনমূর্খী একটি রাজনৈতিক দল। রোববার (১৬ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচন আমরা বর্জন করেছি। আমাদের দলীয় কোন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। এজন্য বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যাবে না। বিএনপি কাউকে সমর্থন দেয়ার দল না, বিএনপি বিএনপির জন্য রাজনীতি করে, বিএনপি বিএনপির জন্য ভোট করে। বিএনপির প্রয়োজনেই বিএনপি ভোট করবে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রে গেলে কাকে ভোট দেবেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, এ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত কিছু সংখ্যাক লোক যেতে পারে। এটা আমাদের দলীয় বিষয় নই। আমরা নির্বাচন চাচ্ছি না। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) টিনিউজকে আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর কাছে (১৬ জানুয়ারির) উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) দলীয় প্রার্থীসহ পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীরা শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাত পর্যন্ত শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চালিয়েছেন। জাতীয় পার্টির কর্মীরা বলছেন, উপনির্বাচনে বিএনপি কোনো প্রার্থী না দিলেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তাঁরা ভোট দিবেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত (১৬ নভেম্বর) টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সাংসদ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ। জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম। আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির সাবেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম (মোটরগাড়ি), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী কমরেড গোলাম নওজব চৌধুরী পাওয়ার (হাতুড়ি) ও বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির রুপা রায় চৌধুরী (ডাব)।
জাপার কর্মীরা টিনিউজকে বলেন, উপনির্বাচনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তারা আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে পরাজিত করতে (লাঙ্গল) প্রতীকে ভোট দিতে পারেন। ইতিমধ্যে অনেকে তাঁদের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন।
জাপার প্রার্থী জহিরুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, বিএনপিসহ তাঁদের শরিক দল নির্বাচনে নেই। ওই দলের সমর্থকেরা আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে তাঁকে ভোট দেবেন। তা ছাড়া আওয়ামী লীগের একটি অংশসহ এলাকার সব পর্যায়ের মানুষ দলমত-নির্বিশেষে তাঁকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ টিনিউজকে বলেন, আমি জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। কারণ, মির্জাপুর আসনটি আওয়ামী লীগের। প্রয়াত একাব্বর হোসেন এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ করে গেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়ন ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সহায়তার জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার জন্য পরিশ্রম করছেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র মতে, এ আসনে ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৯ জন। মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শরিফা বেগম টিনিউজকে জানান, ১২১টি কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ