মির্জাপুর উপনির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ ॥ ভোট রবিবার

116

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে মির্জাপুর উপজেলার প্রতিটি প্রান্তরে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মিছিল মিটিংয়ে সরগরম পুরো নির্বাচনী এলাকা। জাতীয় সংসদের টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচন হবে আগামী রবিবার (১৬ জানুয়ারি)। প্রথমবারের মতো এই আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ, তাদের প্রশিক্ষণ, মগ ভোট প্রদানসহ স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচনের সব আনুষ্ঠানিকতা এরই মধ্যে শেষ করেছে। এবার মোট ৫ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের খান আহমেদ শুভ (নৌকা), জাতীয় পার্টির জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙ্গল), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী (হাতুড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী ইরুল ইসলাম নুরু (মোটর গাড়ি) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী শ্রী মতি রুপা রায় চৌধুরী (ডাব)।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস টিনিউজকে জানায়, একটি পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০১ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৮ জন। টাঙ্গাইল কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয় (মহিলা কেন্দ্র) গোড়াইয়ে ৪ জন হিজড়া তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ বছর ১২১টি ভোট কেন্দ্রের ৭৫৬ কক্ষে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট হবে।
গত (১৬ নভেম্বর) এ আসনে জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ৪ বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা একাব্বর হোসেন মারা যান। এরপর নির্বাচন কমিশন আসনটি শুন্য ঘোষণা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করেন।
এদিকে, মির্জাপুর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থী ৫ জন হলেও ভোটের মূল প্রতিযোগিতা হবে আওয়ামী লীগের (নৌকা) ও জাতীয় পার্টির (লাঙ্গলের) মধ্যে। প্রচারণার দিক থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খান আহমেদ শুভ অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বয়সে তরুণ। তার বাবা ফজলুর রহমান খান ফারুক মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন ত্যাগী রাজনীতিবিদ। তিনি ৭০ ও ৭৩ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া প্রয়াত সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেন এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ টিনিউজকে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন কর্মী আমি। বাবা ফজলুর রহমান খান ফারুক একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পরীক্ষিত সৈনিক। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রয়াত এমপি একাব্বর হোসেন মির্জাপুরের অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার সেই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী আমার জন্য মাঠে কাজ করছেন। আগামী (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচনে এলাকাবাসীর ভোটে আমি জয়ী হতে পারবো ইনশাল¬াহ। আমি নির্বাচিত হলে মির্জাপুরকে একটি আদর্শ উপজেলা হিসেবে উপহার দিতে চাই। বিশেষ করে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে চেষ্টা করবো।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহিরও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পল¬ীবন্ধু এরশাদের লাঙ্গল প্রতীক বিজয়ী করতে জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল ইসলাম জহির। গণসংযোগের সময় লাঙল প্রতিকের ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সারা পাচ্ছেন বলে তার নেতাকর্মীরা জানান। তার প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু আহাম্মেদ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ছিবার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোরহাব সিকদার বাদশা, পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ আলী, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক গনি মিয়া প্রমুখ।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দলীয় প্রার্থী জহিরুল ইসলাম জহির টিনিউজকে বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। উপজেলা জাতীয় পার্টি এবং সাধারণ ভোটাররা আমার সঙ্গে আছেন। পরিবর্তনের জন্য তারা আমাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করবেন। মির্জাপুরের সন্তান হিসেবে আমি সব সময় এলাকাবাসীর সঙ্গে ছিলাম। ভবিষ্যতে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করতে নিজেকে নিয়োজিত করবো। মির্জাপুরে নৌকার বাহিরে অনেক ভোট রয়েছে। তার প্রমাণ কিন্তু গত (৫ জানুয়ারি) ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনেই বোঝা গেছে। ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি না করলে এবং সাধারণ ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে মির্জাপুর এই আসনে জাতীয় পার্টি জয়ী হবে।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপুর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে গ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ