৬০১ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু-এলেঙ্গা চারলেন সড়কের কাজ চলছে ধীর গতিতে

97

স্টাফ রিপোর্টার ॥
বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের চার লেন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে খুব ধীর গতিতে। বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সকল প্রকার যানবাহন চলাচল করে থাকে। চার লেন সড়ক নির্মাণের কাজ ধীরগতির কারণে ভোগান্তি বেড়েছে এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের। ৬০১ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেন সড়ক নির্মাণ কাজের কচ্ছপ গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই মহাসড়কে যাতায়াতকারীরা।




তবে এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, বিগত ২০২১ সালে তিন বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কার্যাদেশ হাতে পেয়েছি। শুরুতে করোনার প্রভাবে ধাক্কা লাগে। এরপরে কাজ হাতে নেয়ার পর সড়ক নির্মাণের জন্য সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত মাটি না পাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে কাজের গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক সময়েই চার লেন সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।




জানা যায়, বিগত ১৯৯৮ সালে টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর ওপর নির্মিত হওয়া বঙ্গবন্ধু সেতু রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রবেশদ্বার। সেতু দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার ছোট-বড় যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। কিন্তু ঈদের সময়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে তিন থেকে চারগুণ হয়। এতে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থেকে-কালিহাতীর এলেঙ্গা মহাসড়কটির ১৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই লেন থাকায় চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও যানবাহন।




গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়ক চার লেনের সুবিধা থাকলেও এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার দুই লেন থাকায় ঈদের সময়সহ প্রায় সারা বছরই সড়কটি যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। দুই লেনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনায় ঘটে প্রাণহানি, হয় আহত। দীর্ঘ দিনের এমন সীমাহীন ভোগান্তি ও দুর্ভোগের পর মহাসড়কের ১৩ কিলোমিটার চার লেনের কাজ শুরু করেছে আব্দুল মোনেম লিমিটেড নামে একটি দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।




সরেজমিনে দেখা যায়, এক বছর আগে এলেঙ্গা-বঙ্গবন্ধু সেতু ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কটির দক্ষিণ পাশে বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশস্তকরণের কাজ করছে শ্রমিকরা। তবে কাজের অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।মহাসড়কে চালক ও যাত্রীরা টিনিউজকে জানান, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ শেষে কাজ শুরু হয়েছে। মহাসড়কের পাশে মাটি ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কচ্ছপের গতিতে কাজ চলছে। এ দুই লেনের চলমান কাজ শেষ হলে জনভোগান্তি থাকবে না। চলমান কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার দাবি তাদের। সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা আফজাল হোসেন, জলিল মিয়া, আবদুর রহমান টিনিউজকে বলেন, ব্যবসা ও পড়াশোনার জন্য মাসে ৬-৭ বার ঢাকায় যাতায়াত করতে হয়। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত দ্রুত সময়ে পৌঁছানো যায়। তবে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের পড়তে হয়। চারলেনের সড়কের সমস্ত যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করে চলাচল করে। এতে এই সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই সড়কটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের সময় বেঁচে যাবে। আমরা স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবো।




ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, সংযোগ সড়ক প্রকল্প (সাসেক) ফেইজ দুই এর অধীনে এলেঙ্গা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পে ১৩.৬ কিলোমিটার মহাসড়কে একটি ফ্লাইওভার, আটটি ব্রিজ, ১০টি কালভার্ট ও দুইটি আন্ডারপাসসহ একটি সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হবে। প্রায় ৬০১ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনসহ এসএমভিটি (সার্ভিস লেন) করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা। প্যাকেজ- পাঁচ এর অধীন এ কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।




এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সেতু (বিবিএ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ও এলেঙ্গা-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আহসান মাসুদ বাপ্পী টিনিউজকে বলেন, বিগত ২০২১ সালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে মাটি ফেলার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। আশা করছি যথা সময়ে মহাসড়কের কাজ শেষ হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ