৪১ বছরেও টাঙ্গাইলের ছাত্রলীগ নেতা কল্যাণ হত্যার বিচার হয়নি

79

স্টাফ রিপোর্টার:

৯ নভেম্বর সোমবার টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ বিহারী দাসের ৪১তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে বি.এন.পি নামধারী কতিপয় চিহ্নিত দুর্বৃত্ত প্রকাশ্য দিবালোকে জনপ্রিয় এই ছাত্রলীগ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার প্রতিশ্রæতি সত্বেও আওয়ামীলীগ ৪ বার ক্ষমতায় গিয়েও এই হত্যাকাÐের বিচার করেনি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ড. কামাল হোসেনের পক্ষে ১৯৮১ সনের ৯ নভেম্বর টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যুগনী হাটে একটি প্রচার মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার সময় বি.এন.পি নামধারী কতিপয় চিহ্নিত দুর্বৃত্ত তৎকালীন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ বিহারী দাসকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। তৎকালীন বি.এন.পি সরকারের ধর্মমন্ত্রী আব্দুর রহমানের ভাতিজা ও জামাতা লাল মাহমুদ এই হত্যাকান্ডে নেতৃত্ব দেয়।

 




ঘটনার দিনই আসামীদের নাম উল্লেখ করে এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু তৎকালীন সরকারের মন্ত্রীর আত্মীয় স্বজনরা এ মামলার আসামী হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে মামলাটির চ‚ড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়। এরপর ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম বাদী হয়ে আদালতে এই হত্যাকাÐের ব্যাপারে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। আদালত ঘটনার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। আসামী পক্ষ এই মামলা বাতিলের জন্য টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করলে শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত আসামীদের আবেদন নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে আসামীরা জেলা ও দায়রা জজের আদেশের বিষয়কে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা দায়ের করলে হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানীর পর আসামীদের রিভিশন খাজির করে দেন। এরপর মামলাটি বিচারের জন্য নিন্ম আদালতে পাঠানো হয়।

 




কিন্তু এরশার সরকারের আমলে প্রভাবশালী আসামীরা মামলার বিচার বন্ধ করার জন্য তৎপর হয়। তাদের প্রভাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক বিবেচনায় এই হত্যাকাÐের বিচার বন্ধ করে দেন। ফলে এখনো এই হত্যাকাÐের বিচার হয়নি। কল্যাণ হত্যার পর ১৯৮১ সনের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাঙ্গাইল শহরের আদালত রোডে কল্যাণদের বাসায় এসে বৃদ্ধ মা-বাবাকে সমবেদনা জানান। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলে এই হত্যার বিচার করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে নেত্রী আশ্বাস দেন। কল্যাণ বিহারী দাসের বড় ভাই প্রবীন সাংবাদিক অধ্যাপক বিমান বিহারী দাস জানান, সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা যে আশ^াস দিয়েছিলেন তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি যতদ্রæত সম্ভব এই নির্মম হত্যাকাÐের বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নিহত কল্যাণের বড় বোন টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা শেফালী দাস কল্যাণ হত্যার বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

 

 




ব্রেকিং নিউজঃ