২৪ বছরের দখল দারিত্ব মুক্ত করলেন মির্জাপুরের জামুর্কী ইউপি

565

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর ॥
দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে একজন চেয়ারম্যানের দখল দারিত্ব থেকে মুক্ত হলো টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদ। পঞ্চম ধাপে গত (৫ জানুয়ারী) অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস) প্রতীক নিয়ে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেই সেই দখলদারিত্বের রেকর্ড ভেঙেছেন ৫৩ বছর বয়সী যুবদল নেতা ডি এ মতিন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি টানা ৪ বারের ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী। নবীন প্রার্থী হিসেবে ৪১৫ ভোটের ব্যবধানে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরীকে হারিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ডি এ মতিন। গত ২৪ বছর ধরে ইউনিয়নবাসী নানা সমস্যায় জজর্রিত। সদ্য অনুষ্ঠিত জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে এর প্রতিবাদ করেছেন। নতুন মুখ নির্বাচিত করতে পেরে ইউনিয়ন জুড়ে বইছে খুশির জোয়ার।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শরিফা বেগম টিনিউজকে বলেন, জামুর্কী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডি এ মতিন (আনারস) ৫ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলী এজাজ খান চৌধুরী (মোটরসাইকেল) ৫ হাজার ২৩২ ভোট পান। এছাড়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ইলিয়াছ মিয়া (নৌকা) ৪ হাজার ৯৩৪, ইউনিয়ন বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক ফিরোজ আলম মোক্তার (অটোরিক্্রা) ৪ হাজার ৪১৭ ভোট পান। জামুর্কী ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থিত তিন প্রার্থী স্বতন্ত্রের আবরণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গত ২৪ বছর পর জামুর্কী ইউপিতে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু দলীয় কোন্দলের কারণে এবারও পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। বিএনপি সমর্থিত তিন প্রার্থী থাকার পরও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আলোচনার খোড়াক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, বিগত ১৯৯৮ সালে যুবদল নেতা বর্তমান উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলী এজাজ খান চৌধুরী প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর তিনি টানা আরও তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। টানা চার মেয়াদে তিনি গত ২৪ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দুই যুগ চেয়ারম্যান থাকার পরও তিনি ইউনিয়নের কাটরা, উফুল্কী ও ধল্যা গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ তেমন উন্নয়ন কাজ না করায় ভোটাররা এবার তাকে ভোট দেননি বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। দীর্ঘ ২৪ বছর পর ইউপি নির্বাচনে কাটরা গ্রামের প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাসিত গ্রামের মানুষ।
এদিকে এবারও ব্যক্তির পরিবর্তন হলেও দলের পরিবর্তন হয়নি। ধল্যা গ্রামের ভিক্ষুক অন্ধ আনোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, জমিদার পরিবারের সন্তান হওয়ায় বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের বেশি অহংকার ছিলো। আল্লাহ অহংকারের পতন ঘটিয়েছে। ইউনিয়নের কাটরা গ্রামের আকবর হোসেন টিনিউজকে জানান, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে কাটরা ও উফুল্কী গ্রামের মানুষ অবহেলিত। বৃষ্টির দিনে কাদা মারিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই দুই গ্রামের রাস্তা থাকে ৪/৫ ফুট পানির নিচে। নৌকা ছাড়া চলাচল করা যায় না। নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ডি এ মতিন কাটরা গ্রামের সন্তান। আমরা গ্রামের একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে পেরেছি। এটা এই গ্রামের মানুষের বহুদিনের আকাঙ্খা ছিল। আল্লাহ গ্রামবাসীর মনের আশা পূরণ করেছেন।
জামুর্কী ইউনিয়নে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ডি এ মতিন টিনিউজকে বলেন, কাটরা, উফুল্কী ও ধল্যা গ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে খুবই অবহেলিত। ইউনিয়নবাসী ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করেছেন। আমি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের সন্তান। আমি কাটরা গ্রামের সন্তান হলেও আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামকেই সমান চোখে দেখে জনগণের সেবা করে যাবো। আমি ভোটারদের কাছে কৃতজ্ঞ।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ