১৯৬৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মির্জাপুরে ছাত্রলীগের কান্ডারী যারা

194

12Mirzapur-10-11-2015-_(1)মির্জাপুর সংবাদদাতাঃ
বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী আন্দোলনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের অনেকেই মূল দল আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাছাড়া অনেকেই রাজনীতি থেকে সরে গেছেন এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুরে সরে রয়েছেন বলে নেতাকর্মী জানান।
জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে ১৯৬৭ সালে মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন নাজিম উদ্দিন। পিতার নাম মৃত কাজিম উদ্দিন। বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী চড়পাড়া গ্রামে। তিনি ৬৭ সাল থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ’৭২ সালে উপজেলার হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। এক বছর পর শিক্ষকতা ছেড়ে মির্জাপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি: (বিআরডিবি) চীপ ইন্সপেক্টর পদে চাকুরী নেন। গত ২০০৮ সালে তিনি অবসর নেন। বর্তমানে তিনি সাংসারিক কাজের পাশাপাশি পোষ্টকামুরী চড়পাড়া দরবার শরীফে পীরের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ১৯৬৭ সাল থেকে ৭০ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলক। তার বাড়ি উপজেলা সদরে। ১৯৭০ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ’৭৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে ’৮৪ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন। তিনি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা ও বাসায় অবসর সময় পার করছেন।
বিগত ১৯৭০ সালে মীর আব্দুল ওয়াদুদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ’৭৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার বাড়ি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামে। পিতার নাম আব্দুল হান্নান। ’৭২ সালে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ’৭৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ’৭৯ সালে তিনি চাকুরীতে চলে যান এবং ২০১২ সালে অবসর নেন।
বিগত ১৯৭৩ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মোশারফ হোসেন মনি। বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল হামিদ। ১৯৬৭ সালে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ৬৯’র ছাত্র আন্দোলনে সরকার হিতেশ চন্দ্র পুলকের নেতৃত্বে ঢাকায় মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। ’৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষনের দিন মির্জাপুর থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে যোগ দেন। ’৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ’৭৩ সালে মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে ’৭৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ’৭৫ সালে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে ১১ ডিসেম্বর মির্জাপুরে রাস্তায় শে¬াগান দেয়ার সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেন। ’৭৯ সালে এলএলবি পাশ করেন। ’৮০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন। ’৮০ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ২০০৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে মির্জাপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সমর্থন চাইবেন বলে জানান।
বিগত ১৯৮১ সালে অনিমেষ ঘোষ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ’৮৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পাল করেন। পরে তিনি ভারত চলে যান।
বিগত ১৯৮৪ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ওয়াজেদ আলী। তার বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। পিতার নাম মৃত তালে সরকার। তিনি ’৯২ সাল পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ’৮২ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। পরে ’৮৫ সালে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ’৯২ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, ’৯৬ সালে দপ্তর সম্পাদক ও ২০০০ সালে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য নির্বাচিত হন। দল মূল্যায়ন না করায় রাজনীতি থেকে দূরে সরে রয়েছেন বলে তিনি জানান।
বিগত ১৯৮১ সালে মীর শরীফ মাহমুদ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ’৯২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক, ’৯৮ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২০০৪ সালে থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০০০ সালে উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লি: (বিআরডিবি) এর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সাল থেকে টানা তিনবার একই পদে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ১৯৯২ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মোজাহিদুল ইসলাম মনির। তিনি ’৯৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৩ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি মির্জাপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি মির্জাপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক ও জামুর্কী নবাব স্যার আব্দুল গনি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ১৯৯২ সালে ফরহাদ উদ্দিন আছু উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ’৯৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। বাবার নাম মৃত নিজাম উদ্দিন। ’৮৯ সালে মির্জাপুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এজিএস পদে জয়ী হন। তিনি ২০০১ সাল থেকে মির্জাপুর পৌর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সমর্থন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
বিগত ১৯৯৬ সালে সিরাজ মিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০০০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। পিতার নাম মৃত মুনসুর রহমান। ২০০৪ সাল থেকে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মির্জাপুরে ব্যবসা করছেন।
বিগত ১৯৯৬ সালে আমিনুর রহমান আকন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বাড়ি উপজেলা সদরে। ’৯৬ সালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও ২০০০ সালে মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালে তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি মির্জাপুরে ব্যবসা করছেন।
বিগত ১৯৯৮ সালে সাহাদত হোসেন সুমন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ২০০০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পিতার খোয়াজ উদ্দিন। বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। ১৯৯৪ সালে মির্জাপুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মির্জাপুর পৌরসভায় দলীয় সমর্থন চাইবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিগত ২০০০ সালে শামীম আল মামুন উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বাবার নাম মৃত আবুল হোসেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। ’৯৬ সালে মির্জাপুর কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হন। ’৯৬ সাল থেকে ’৯৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক, ’৯৮ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সাল থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন এমপির এপিএস ও ২০১৫ সাল থেকে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ২০০৫ সালে মাজহারুল ইসলাম শিপলু উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নিবাচিত হয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বাড়ি সদরের পোষ্টকামুরী গ্রামে। বাবার নাম মৃত তারা মিয়া। ১৯৯৭ সালে মির্জাপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য, ’৯৮ সালে একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিএস নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য, ২০০৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আজহারুল ইসলাম উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। বাড়ি উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামে। বাবার নাম আব্দুর রহিম বক্্র। ১৯৯৩ সালে বংশাই স্কুল এন্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, ’৯৫ সালে আজগানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, ২০১৩ সালে মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহবায়ক ও ২০০৪ সালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বংশাই স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য, ২০১৫ সালে টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও মির্জাপুর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আজগানা ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন চাইবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
বিগত ২০১৪ সালের ১৬ মে খন্দকার নাঈম হোসেন মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত গোড়াই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। নাঈম করটিয়া সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত।
বিগত ২০১৪ সালের ১৬ মে আওলাদ হোসেন মির্জাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বাড়ি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামে। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মির্জাপুর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা ছাত্রলীগের স্কুল ছাত্র বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে করটিয়া সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়নরত।

ব্রেকিং নিউজঃ