১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের মধুপুর হানাদার প্রতিরোধ দিবস

49

স্টাফ রিপোর্টার, ধনবাড়ী ॥
৪৯ টি এপ্রিল শেষে আবারো সেই (১৪ এপ্রিল) এসেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর মাত্র ২০ দিনের মাথায় টাঙ্গাইলের মধুপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা থমকে দিয়েছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর চলার পথকে। মধুপুরের প্রবেশ পথকে করেছিল রুদ্ধ। আজ (১৪ এপ্রিল) সেই প্রথম প্রতিরোধের দিন।
১৯৭১ সালের (২৫ মার্চ) ভয়াল কালরাত। বাঙ্গালী জাতির উপর পাকিস্তানী হায়েনাদের আক্রমণে বিমর্ষ-বিমূঢ় হলেও বাঙ্গালীরা প্রতিরোধে পিছপা হয়নি। সারা দেশেই গড়ে উঠেছিল খন্ডখন্ড প্রতিরোধ। তারই অংশ হিসেবে মধুপুরের কতিপয় যুবক মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সংগঠিত হতে থাকে।
প্রথমেই মধুপুর মদনগোপাল আঙ্গিনা, পরে থানার ডাক বাংলোর মাঠে, অতঃপর সিও অফিসের খোলা মাঠে এবং টেংরী গোরস্থানের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে গজারী বাগানে পুন্ডুরা নিবাসী আনসার সদস্য বেলায়েত মন্ডল শুরু করলেও তৎকালীন ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য এম মুনসুর আলীর নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তৎকালীন মধুপুর থানার ওসি আব্দুল মালেকের (চিত্র নায়ক সোহেল রানার পিতা) গোপনীয় সহায়তায় একটি রাইফেল প্রতিদিন প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ দিতেন। পরে প্রশিক্ষণার্থী যুবকরা থানা থেকে সকল রাইফেল ছিনিয়ে নেয়। (১৩ এপ্রিল) হানাদার বাহিনী মধুপুরে প্রবেশ করলেও মধুপুরবাসী কোন প্রতিরোধ গড়ে তুলেনি। (১৪ এপ্রিল) দ্বি-প্রহরের দিকে হানাদার বাহিনীর ৩টি গাড়ি মধুপুরের দিকে কিছু সৈন্য এবং অস্ত্রসহ চলে আসে। এদিকে মধুপুর ব্রীজের দক্ষিণ পাড়ে মালাউড়িতে মুনসুর আলী, আব্দুর রাজ্জাক, কামাল, জুয়েল, আব্দুল মজিদ, হাবিবুর রহমান, গোলাম মোস্তফা ও সাইদুর রহমানসহ নাম না জানা আরো অনেক মুক্তিযোদ্ধারা গোরস্থান এলাকা থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পজিশন নিয়ে বসে থাকে।
উৎ পেতে বসে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর জনৈক অফিসারের গাড়ির চাকাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে গাড়ির চাকা বিকল হয়ে যায়। এটা বুঝে উঠার আগেই গাড়িকে লক্ষ্য করে আবারো গুলি ছুড়ে মুক্তিযোদ্ধারা। গুলি লাগে বেলুচি রেজিমেন্টের মেজর ইকবালের গায়ে। মেজর ইকবাল সেখানেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের এলোপাথারি গুলিতে হতচকিত হয়ে পড়ে তারা। শুরু হয় মধুপুরের ইতিহাসের সেই স্মরণীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে দফায় দফায় পাকিস্থানি সেনারা পিছু হটতে শুরু করে। যুদ্ধ সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। যুদ্ধে বিকল একটি গাড়ি ও বেশ কিছু অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের হস্তগত হয়। ঐ যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মালাউড়ির কলিম উদ্দিন মুন্সী ও হোসেন আলী স্থানীয় মসজিদ এলাকায়, ওমর আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায়, কাজী মোন্তাজ আলী ও টেংরীর ইয়াকুব আলী টেংরী পাহাড়ের পাদদেশে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। এই দিনটি মধুপুর বাসীর নিকট একটি স্মরণীয় দিন।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ