১২ ডিসেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী

144

Mawlana-Bashani-pic-02স্টাফ রিপোর্টারঃ
১২ ডিসেম্বর মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ১৩৫তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। শনিবার সকাল ৯টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অপর্ণ। বেলা ১১টার সময় মুক্তমঞ্চ ও দরবার হলে পাঁচদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালির ইতিহাস ও কৃষ্টি বিষয়ে ‘ইতিহাস কথা কয়’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা। বিকেলে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া। সন্ধ্যায় মুক্তমঞ্চে দেশ নাটকের প্রযোজনায় ‘দর্পণে শরৎশশী’ নাটক মঞ্চায়িত হবে।
এই মহান নেতা ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে মক্তবে শিক্ষা গ্রহণ এবং মক্তবেই কিছুকাল শিক্ষকতা করেন। ১৯০৩ সালে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯১৯ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে খেলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন এবং এ সময় ১০ মাস কারা ভোগ করেন। ১৯২৩ সালে ভয়াবহ বন্যা হলে মওলানা ভাসানী টাঙ্গাইলে আসেন ত্রান বিতরন করতে। এরপর তিনি টাঙ্গাইলের সন্তোষ গ্রামে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। ১৯২৯ সালে আসামের ধুবড়ী জেলার ব্রম্মপুত্র নদীর ভাসান চরে প্রথম কৃষক সম্মেলন করেন। সেই থেকে তার নামের পিছনে ভাসানী শব্দ যুক্ত হয়।
১৯৩১ সালে টাঙ্গাইলের সন্তোষের কাগমারীতে, ১৯৩২ সালে সিরাজগঞ্জের কাওরাখোলায় এবং ১৯৩৩ সালে গাইবান্ধায় বিশাল কৃষক সম্মেলন করেন। তিনি বাংলার গরীব-দুঃখী মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ বহু আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ   নেন। এ কারনেই তিনি মজলুম জননেতায় পরিনত হন। গরীব-দুঃখীর জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করতে করতেই মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নবেম্বর মৃত্যুবরন করেন। তাকে সমাহিত করা হয় টাঙ্গাইলের সন্তোষে।
ভাসানী তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনে মানুষের জন্যেই কাজ করে গেছেন। দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত গরীব-দুঃখী মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন, সংগ্রাম সামনে থেকে পরিচালনা করেছেন। ভাসানী দীর্ঘ কর্মময় জীবনে টাঙ্গাইলের সন্তোষে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। এই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৯টি কারিগরী ও সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। এসব প্রতিষ্ঠান এখনও রয়েছে শুধু তার স্বপ্নের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়টিই নেই। বিগত সরকারগুলো কথা দিয়েছিল বারবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১শ’ ৬ দশমিক ২৬ একর জায়গার ওপর এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ