১০ ডিসেম্বর ঘাটাইল মুক্ত দিবস

105

freedom_pictureঘাটাইল সংবাদদাতাঃ
আজ বৃহস্পতিবার ১০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঘাটাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীকে বিতারিত করে ঘাটাইলকে শত্রুমুক্ত  করে। ফলে এই দিনটি ঘাটাইলবাসীর নিকট অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তীর বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম প্রথমে ঘাটাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে কাদেরিয়া বাহিনী গঠন করেন। কাদেরিয়া বাহিনী দীর্ঘ নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঘাটাইলের সব মুক্তিযোদ্ধা কাদেরিয়া বাহিনীর সাথে একীভূত হয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
সন্মুখ যুদ্ধে ঘাটাইলের মাকড়াই নামক স্থানে পাকহানাদার বাহিনীর গুলিতে আঙ্গুলে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে আহত হন বঙ্গবীর। ৮ ডিসেম্বর ছিল ঘাটাইলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দিন। এই দিনে ঘাটাইলে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হন। ৭ ডিসেম্বর ভূঞাপুরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয় ৮ ডিসেম্বর রাতে ঘাটাইলে অবস্থানরত প্রতিটি পাকবাহিনীর আস্তানায় আক্রমণ করা হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে ত্রিশটি কোম্পানিতে ভাগ করে পাকহানাদার বাহিনীর ঘাটিতে আক্রমনের নির্দেশ দেয়া হয়। পাঁচ দলের পাঁচজন সেনাপতির মধ্যে মেজর হাবিবকে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দখলের দায়িত্ব দেয়া হয়। ৯ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী ঘাটাইল থানায় অবস্থানরত হানাদার বাহিনীর উপর প্রথমে আঘাত হানে। পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মেজর হাবিব টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বানিয়াপাড়া ব্রীজ আক্রমণ করে ভোর চার টার সময়। এ সময় ৪০ জন রাজাকার আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।
মুহুর্তের মধ্যেই বানিয়াপাড়া ব্রীজ এবং মেজর মোস্তফার নেতৃত্বে কালিদাস পাড়ার ব্রীজটি দখল করে নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। পরে ঘাটাইল থানার দিকে অগ্রসর হতে থাকে তারা। অপরদিকে কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ কাদের সিদ্দিকী নিজে পশ্চিম দিক হয়ে থানা অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকেন। এই ত্রিমুখী আক্রমনের ফলে ঘাটাইল থানা সদরে অবস্থানরত ৪০-৫০ জন হানাদার বাহিনীর সদস্য নিহত হয় এবং ১৫০ জন হানাদার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট আত্মসর্মপন করে। এই দিনে থানা দখল হলেও মুক্তিযোদ্ধারা একটি কৌশল অবলম্বন করে। ১০ ডিসেম্বর জামালপুর ও ময়মনসিংহ হতে বিতারিত চার শতাধিক গাড়ির একটি সেনা বহর টাঙ্গাইলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ঐ পাক সেনাবহরকে ফাঁদে ফেলার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলে অনতিদুরে অবস্থান নেয়। মেজর হাবিবের ধ্বংস করে দেয়া বানিয়াপাড়া ব্রীজের নিকট পাকবাহিনীর গাড়িবহর পৌছা মাত্রই মিত্রবাহিনীর সাহায্য নিয়ে মিগ-২১ পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এ যুদ্ধে কয়েশত পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয় এবং বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা বারুদ উদ্ধার করে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ঘাটাইলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান রণকৌশল ও বীরত্বগাথা সত্যিই অবিস্মরনীয়। তাই এ দিনটি স্থানী প্রশাসন ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে ১০ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবস পালন করে আসছে।

ব্রেকিং নিউজঃ