১০ ডিসেম্বর গোপালপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস

133

5_46195গোপালপুর সংবাদদাতাঃ
আজ বৃহস্পতিবার ১০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ইতিহাসে গৌরবোজ্জল একটি দিন। ১৯৭১ সালের মহান স্বধীনতা যুদ্ধের প্রায় ৮ মাস পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক গোপালপুরবাসী হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের পর ১০ ডিসেম্বর মুক্তির স্বাদ লাভ করে। পাকিস্তানের দীর্ঘ ২৪ বৎসরের দুঃশাসন, বঞ্চনা, বৈষম্য, অত্যাচার, নির্যাতনের ফলে সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বিশ্বের বুকে অভ্যূদয় ঘটে বাংলাদেশ নামক দেশটির। ২৫ মার্চ ৭১’র কালোরাতে পাক হানাদার বাহিনী যে হত্যাযোগ্য শুরু করে তার ধারাবাহিকতা সারা দেশে চালাতে থাকে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে গোপালপুরের বীর জনতা দেশের অবস্থা অনুধাবণ করতে পেরে সংগঠিত হয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে ।
টাঙ্গাইল জেলার উত্তরে অবস্থিত গোপালপুর থানা। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর নিকরাইল রানী দিনমনি হাইস্কুলে ৭০ জন কমান্ডারের মিটিংয়ের পর কাদেরিয়া বাহিনী প্রধান বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী গোপালপুর থানা আক্রমণ করার জন্য কয়েকজন কোম্পানী কমান্ডারকে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পাওয়া কোম্পানী কমান্ডাররা হলেন- নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর কোম্পানী, আব্দুর রাজ্জাক ভোলা, আসাদুজ্জামান আরজু কোম্পানী, বকুল কোম্পানী, আব্দুল হাকিম কোম্পানী, নূরুল ইসলাম কোম্পানী ও আনিসুর রহমান আনিস কোম্পানী, খন্দকার হাবিবুর রহমান কোম্পানী। এদের মধ্যে চারটি কোম্পানীর প্রতিনিধিদের নিয়ে পাঁচটিকড়ি বসে পরামর্শ সভা করে গোপালপুর আক্রমণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা অনুসারে নূর হোসেন তালুকদার আঙ্গুর কোম্পানি গোপালপুর গরুহাটি দিয়ে আক্রমণ করবে। আসাদুজ্জামান আরজু কোম্পানী গোপালপুর দক্ষিণাংশ অর্থাৎ কীর্তনখোলা দিয়ে আক্রমণ করবে। আর আব্দুল হাকিম কোম্পানী পশ্চিম দিক থেকে মর্টার বাহিনী হিসেবে আক্রমণ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৯ ডিসেম্বর গোপালপুর থানা আক্রমণ হয়।
১০ ডিসেম্বর বেলা ৩ টায় ভারতীয় ৩টি মিগ-২১ বিমান গোপালপুর ও ঘাটাইল থানার উপর একযোগে ট্রাম্পিং করে। দুই থানার ক্যাম্পে অবস্থিত পাক সেনা ও রাজাকারা বাচার তাগিদে রাতের আধারে গোপালপুর থেকে পালিয়ে যায়। এদিকে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকায় গোপালপুর থানার সূতি, নন্দনপুর, ভূঞারপাড়া, চরপাড়া, গোপালপুর গরুহাটিসহ বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ দূরত্ব থেকে পাক সেনাদের ঘেরাও করে রেখেছিলেন। পাক সেনাদের পালিয়ে যেতে দেখে তারা মিঞা কমান্ডার ও চাঁদ মিঞার প্লাটুনের মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ধরার জন্য ধাওয়া করেন। প্রায় ১ ঘন্টা গোলাগুলি হয়।
১০ ডিসেম্বর সকাল ১০ টার মধ্যে শত্রু সেনা গোপালপুর থানা থেকে পালিয়ে যায়। সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে আরজু কোম্পানীর চাঁদ মিঞার প্লাটুনের মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করতে করতে গোপালপুর থানায় প্রবেশ করেন। সেই সাথে গোপালপুর থানা হানাদার মুক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে। সর্ব প্রথম চাঁদ মিঞা, সাহেব আলী, শামছুল আলম, আব্দুল লতিফ, আজাহার, কাদের তালুকদার, তোরাপ সিকদার, ইসমাইল হোসেন মৃধা, আব্দুস ছোবহান তুলা প্রমুখ গিয়ে থানায় উঠেন। পরে আসাদুজ্জামান আরজু কমান্ডার, বিমল, হায়দার, জয়নাল, শুকুর নামক মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন।
ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্তরের মানুষ থানায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সাথে কোলাকোলি করেন। পরে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি খাবারের ব্যবস্থা করেন। ১০ ডিসেম্বর গোপালপুর থানার পাক হানাদার মুক্ত হয়। বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উড়ে।

ব্রেকিং নিউজঃ