স্বাধীনতার ৫১ বছরেও সংরক্ষণ করা হয়নি ধনবাড়ীর গণকবর

52

স্টাফ রিপোর্টার ॥
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো বাঙালি অকাতরে প্রাণ বিলিয়েছেন দেশের জন্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন অনেকেই। তাদের কেউ আমাদের চেনা, কেউবা অচেনা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ এই সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত রাখতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্য ও স্মৃতিফলক। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে আছে বধ্যভূমি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সোনালি ইতিহাস আছে ধনবাড়ীতে। ধনবাড়ী উপজেলার পানকাতা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবরে শায়িত আছেন ২৪ জন জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তান। কিন্তু ধনবাড়ী-মধুপুরের একমাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের গণকবরটি অযন্তে অবহেলায় পড়ে রয়েছে দীর্ঘ স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া বীর শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ও আগামী নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এই ধনবাড়ীর গণকবরটিকে সরকারীভাবে সংস্কার করার দাবী সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের।




জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই দেশকে শত্রুমুক্ত করতে ধনবাড়ী-মধুপুরের মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। ৯ ডিসেম্বর ধনবাড়ীতে পাকহানাদার বাহিনীরা প্রবেশ করলে মুক্তিযোদ্ধারা বিভিন্ন স্থানে ঘাঁটি স্থাপন করে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। একর্যায়ে কয়ড়া নদীপাড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে পাক বাহিনীদের দুইজন সেনা গুলিবৃদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরে তারা সরিষাবাড়ীর দিকে পিছু হটে চলে যায়। যুদ্ধুের সময় পাক বাহিনীরা পানকাতায় ৭ টি বসতবাড়ীতে আগুন দেয় ও মুক্তিযোদ্ধা সহ ২৪ জন কে গুলি করে হত্যা করে। পরে পানকাতা গ্রামে শাহাদতবরণ কারী শহীদদেরকে গণকবর দেওয়া হয়।




বীরমুক্তিযোদ্ধা নোধা’র নেতৃত্বে বীরতারায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে কদমতলী স্কুল মাঠের পাকিস্থানীদের কে ঘাঁটি ছেড়ে পাকিস্তান চলে যেতে বাধ্য করে। শত্রুমুক্ত করে কদমতলী স্কুল মাঠের বটতলায় লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে জয় বাংলা ধ্বনিতে দেন। তারা সেই থেকেই কমতলীতে জয় বাংলা নামে হাট বসানো হয়। আজো সেই যুদ্ধেও স্মৃতি বহন করে জয় বাংলা হার্টের বট গাছটি। বীর-কদমতলী ডাকঘরের মাষ্টার আজিজ ও সাবেক ই.ডি.ডি এ কর্মচারী আবুল হোসেনসহ কদমতলী বাজারের ব্যাবসায়ী এফাজ আলী জানান, স্বাধীনতার সেই দিন শত্রুমুক্ত করে কদমতলী স্কুল মাঠে পতাকা উড়িয়ে দেয়। জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। সেই থেকেই কমতলী কে জয় বাংলা নামে হাট বসানো হয়। আজো সেই যুদ্ধেও স্মৃতি বহন করে জয় বাংলা হাটের বট গাছটি।




বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউছুব আলী ও পানকাতা গ্রামের ৭০ উর্ধ্ব আমজাদ হোসেন জানান, পানকাতা গণকবরটিকে সরকারীভাবে সংস্কার করে চারদিকে প্রাচীর নির্মাণের জন্য প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকসহ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি মহোদয়ের নিকট জোর হস্তক্ষেপ কমানা করছি। মধুপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, মধুপুর-ধনবাড়ীর একটি মাত্র গণকবর রয়েছে ধনবাড়ী উপজেলার পানকাতায়। যা আজো মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতি বহন করে। তাই আমরা মধুপুরের সকল মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী পানকাতা গণকবরটি সরকারীভাবে সংস্কার করে কবরস্থানের চার পাশে দেয়াল ও একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের।




ধনবাড়ী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন কালু জানান, বিজয়ের এই মাসে মহান মুক্তিযোদ্ধরা ধনবাড়ী মধুপুরে ১০ ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত দিবসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিন টিকে উদযাপন করা হয়ে থাকে। তবে এই দিনটিকে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে ধরে রাখতে ও আগামী প্রজম্মকে মুক্তিযোদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে পানকাতা গণকবরটি সংরক্ষিত করে নামফলক বা স্মৃতি ফলক নির্মাণ করার দাবি সকলের। তিনি আরো জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচার করায় তার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধনবাড়ী উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।

ব্রেকিং নিউজঃ