স্ত্রীর মামলায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দন বণিক জেলহাজতে

265

স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক স্বামী চন্দন বণিককে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) বিকালে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চিকিৎসক চন্দন বণিক টাঙ্গাইল পৌর শহরের প্যারাডাইস পাড়া মহল্লার ব্রজ গোপাল বণিকের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর তাড়াশ পৌর শহরের ঘোষ পাড়া মহল্লার বাসিন্দা বব্রু বাহন রায়ের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তনুশ্রী রায়ের সঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর শহরের প্যারাডাইস পাড়া মহল্লার ব্রজ গোপাল বণিকের ছেলে চিকিৎসক চন্দন বণিকের সাথে নগদ দুইলাখ টাকা ও সাত ভরি স্বার্ণালংকার দেয়ার মাধ্যমে ঘটা করে বিয়ে হয়।
কিছু দির পর আবার স্বামী চন্দন বণিক আরো তিন লাখ টাকার জন্য স্ত্রী তনুশ্রীকে চাপ দিতে থাকে। কিন্তু এতে গৃহবধূ তনুশ্রীর বাড়ি থেকে টাকা দিতে না পারায় প্রতি নিয়তই তার ওপর চলতে থাকে অমানুষিক অত্যাচার।
এক পর্যায়ে স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুর মিলে বহুবার তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। এভাবে তনুশ্রী যখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা তখন টাঙ্গাইলের নীলাচল ১২৮ নং বাসায় (২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর) স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুর মিলে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে চাপ দেন। কিন্তু তনুশ্রী টাকা আনতে না চাইলে স্বামী চন্দন স্ত্রীর পেটে সজোরে লাথি মারে এবং সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
পরে সে জানতে পারে কোনো ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত ঘটিয়ে অনাগত সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর পুনরায় তাকে বাবার বাড়ি তাড়াশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাড়াশ পৌর শহরের ঘোষ পাড়া বাবার বাসায় ৩ ডিসেম্বর সালিসি বৈঠক বসে। শ্বশুর-শ্বাশুড়ি ও সালিসের লোকজনের মধ্যেই স্বামী যৌতুকের দাবিতে অটল থেকে আবারো শারীরিক নির্যাতন করে। বিচার চেয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও যখন কোন কোনো প্রতিকার না পেয়ে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-২ এ ২৬ জানুয়ারি ২০২০ তারিখে ১১৩/২০ নম্বরে মামলা দায়ের করেন।
পরে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আব্দুলাহ আল মামুন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলাউদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সে সময় তাড়াশ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলাউদ্দিন মামলাটি তদন্ত করে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ দিন মামলাটি চলমান অবস্থায় স্বামী চন্দন বণিক গতকাল বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জ আদালতে গিয়ে আগাম জামিনের জন্য হাজির হলে বিচারক তাকে আটকের নির্দেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামি ১০ ফেব্রয়ারি এই মামলার শুনানী আছে বলে মামলার বাদী স্ত্রী তনুশ্রীর আইজীবি ফারজানা খাতুন লাভলী নিশ্চিত করেছেন।
এবিষয় ছেলের বাবা ব্রজ গোপাল বণিকের সাথে যোগাযোগের করা হলে তাকে পাওয়া যায় নাই
এবিষয়ে তনুশ্রীর ভাই বিদ্যুৎ রায় জানান,আমার বোনের স্বামী ডাঃ চন্দন বণিক একজন প্রতারক। সে আমার বোনের বিয়ের আগে একটা বিয়ে করেছিলেন যা কাউকে বলেনি, এমকি বুঝতেও দেয়নি। এমতাঅবস্থায় আমার অনাগত ভাগ্নেকে হত্যা করেছে সে একজন অপরাধী।

 

ব্রেকিং নিউজঃ