সৃষ্টির শিহাব হত্যায় অধ্যক্ষসহ ৯ শিক্ষকের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

416

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ছাত্র শিহাব মিয়াকে (১০) শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন আবুল ফজল মোঃ সাহাবুদ্দিন তদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রিপোর্টে গলা চেপে ধরে হত্যা করার আলামত পাওয়া গেছে। রোববার (২৬ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ফলাফল পাওয়া যায়। পরে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টটি টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বিকেলে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সৃষ্টি স্কুলের অধ্যক্ষসহ আবাসিকের দুই শিক্ষক আবু বকর ও নাসিরসহ ৯ শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য টাঙ্গাইল সদর থানা ও র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

 

নিহত শিহাব টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেরবাড়ী এলাকার সিঙ্গাপুর প্রবাসী ইলিয়াস হোসেনের ছেলে। শিহাব সৃষ্টি একাডেমিক ৫ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলো। গত সোমবার (২০ জুন) বিকালে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার বাথরুম থেকে শিহাবের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন (২১ জুন) টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে শিহাবের লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়। এ ঘটনার পর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছিল। যদিও সৃষ্টি একাডেমিক স্কুল কর্তৃপক্ষ এটিকে শুরু থেকেই আত্মহত্যা বলে আসছিলো।

শিহাবের ফুপাতো ভাই আল আমিন সিকদার টিনিউজকে জানান, গত জানুয়ারিতে শিহাবকে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে ভর্তি করা হয়। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র শিহাব নিয়মিত ভালোভাবেই পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ গত সোমবার (২০ জুন) বিকেলে সৃষ্টি স্কুল থেকে ফোন দিয়ে বলা হয় শিহাব অসুস্থ। আপনারা তাড়াতাড়ি আসেন। পরবর্তীতে ওই নাম্বারে ফোন দিয়ে শিহাবের অসুস্থতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয় সিএনজি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে। তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি স্কুল ভবনের কাছে গেলে সেখানে ঢুকতে না দিয়ে তারা বলে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে যাওয়ার জন্য। হাসপাতালে আসার পর শুনতে পাই শিহাব মারা গেছে।

স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য স্কুলের আবাসিকের বাথরুমে শিহাব মিয়া আত্মহত্যা করেছে। সৃষ্টি স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল আনোয়ার হোসেন টিনিউজকে জানান, শুনেছি শিহাব বাথরুমের ঝরনার সাথে গামছা পেছিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ ঘটনায় শিহাবের বাবা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিহাবকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। এরপর থেকেই ফুঁসে উঠতে থাকে স্কুলের শিক্ষার্থীরাও। তারাও হত্যাকান্ডের সুষ্টু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।

টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন আবুল ফজল মোঃ সাহাবুদ্দিন টিনিউজকে বলেন, এ ঘটনায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদকে প্রধান করে তিন সদস্যের ময়নাতদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- ডাক্তার তানভীর আহম্মেদ ও আবাসিক ফিজিসিয়ান ডাক্তার কামরুজ্জামান। শরীরে কোন দাগ বা আঘাতের চিহৃ নেই। শুধু গলায় দাগের চিহৃ রয়েছে। সেখানে কোন কিছু পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত শিহাবের চাচা তুষার আহম্মেদ টিনিউজকে বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম শিহাবকে হত্যা করা হয়েছে। এতো ছোট ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমরা সৃষ্টি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করব।

নিহত শিহাবের বাবা ইলিয়াছ হোসেন টিনিউজকে জানান, কোন নিরপরাধ সন্তানকে যেন আর হত্যার শিকার না হতে হয়। তিনি সন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সৃষ্টি শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রিপন টিনিউজকে বলেন, এ ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক সুষ্ঠ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছি প্রশাসনের কাছে।

টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন টিনিউজকে জানান, সৃষ্টি স্কুলের আবাসিক হলের বাথরুম থেকে ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। তখন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী হত্যা মামলা হবে। সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার টিনিউজকে বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুয়ায়ী অবশ্যই হত্যা মামলা হবে। রোববার (২৬ জুন) বিকালে সৃষ্টি স্কুলের আবাসিকে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সুষ্ঠ তদন্ত করে আমরা দ্রুতই জড়িতদের গ্রেপ্তার করব।

ব্রেকিং নিউজঃ