সৃষ্টির নিহত ছাত্র শিহাবের মা মামলার এজাহারে যা যা বলেছেন

4,115

আদালত সংবাদদাতা ॥
আমি আছমা আক্তার (৩৫), স্বামী- ইলিয়াস হোসেন, বেড়বাড়ী, সখীপুর, টাঙ্গাইল। আমি আমার স্বামী ইলিয়াস হোসেন, আমার নোনাসের ছেলে ইসমাইল হোসেন, আমার শ্বশুর ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় হাজির হয়ে এই মর্মে-
আবু বক্কর (৩৫), বিপ্লব (৩০), আশরাফ (৩০), মাসুম (৪০), মতিন ( ৪২), বিজন (৪০) সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার (মামলা) দায়ের করি।

 

মামলায় নিহত শিহাব মিয়ার (১০) মা আছমা আক্তার বলেন, আমার স্বামী সিংগাপুর অবস্থান করায় আমি আমার সন্তান শিহাব মিয়া (১০) সহ অন্যান্য সন্তানদের নিয়ে নিজ সাকিনে বসবাস করা অবস্থায় অত্র মোকাদ্দমার ডিসিষ্ট শিহাব মিয়াকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য আমার স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে টাঙ্গাইলস্থল সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিকে ৫ম শ্রেণিতে ভর্তি করিলে উক্ত একাডেমিক ভবনের ৭ম তলার আবাসিকে থাকিয়া লেখাপড়া করিত। আমার বাড়ী দূরবর্তী স্থানে থাকায় আমার নাবালক সন্তান টাঙ্গাইল সৃষ্টি একাডেমিক আবাসিক ভবনের ৭ম তলায় থাকিয়া স্বাভবিকভাবে নিয়মিত ক্লাস করিয়া আসছিলো।

এমতাবস্থায় ঘটনার গত (২০ জুন) আনুমানিক বেলা ৪টা ২৫ দিকে আসামী বিপ্লব ০১৭২০১০৩১০২ নং নম্বর হইতে সাক্ষী আল আমিন সিকদারের মোবাইল এর ০১৭৬৬০৩৪১৫১ নাম্বার এ ফোন করিয়া জানায় যে, আমার নাবালক শিশু সন্তান শিহাব মিয়া গুরুত্বর অসুস্থ অবস্থায় আছে বিষয়টি আমার নোনাসের ছেলে আল আমিন সিকদার আমাকে অবগত করিলে আমি সাক্ষী আল আমিন সিকদার, মনির সিকদার, ইসমাইল হোসেন, রুবিনা সিকদার, ফেরদৌসি বেগমকেসহ টাঙ্গাইল লইয়া সৃষ্টি একাডেমিক আবাসিক স্কুলের ভবনে যাই এবং সেখানে আমার নাবালক শিশু সন্তান শিহাব মিয়া (১০) কে না পেয়ে জানতে পারি যে, তাকে টাঙ্গাইলস্থল সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়াছে। আমি তৎক্ষনাৎ ভাবে কান্নারত অবস্থায় উল্লেখিত সাক্ষীগণদের সংগে লইয়া সদর হাসপাতালে যাইয়া আমার ছেলেকে খোঁজাখুঁজি করিতে থাকি।

একপর্যায়ে জানিতে পারি যে, আমার ছেলেকে মৃত অবস্থায় তাহার লাশ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালস্থ মর্গে রাখিয়াছে। আমি তাৎক্ষনিক ভাবে কতক সাক্ষীগণদেরকে সংগে লইয়া মর্গে চলিয়া যাই। মর্গে যাওয়ার পর উল্লেখিত আসামীগণসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ আসামীগণ আমাকে দেখিতে পাইয়া তাহারা ছুটাছুটি করিয়া দ্রুত গতিতে উক্ত মর্গ স্থল ত্যাগ করে। আমি ও উল্লেখিত স্বাক্ষীগণসহ মর্গে যাইয়া আমার নাবালক শিশু সন্তান শিহাবকে সনাক্ত করি এবং তাহার শরীরের বিভিন্ন জায়গায়সহ গলার মধ্যে গুরুত্বর রক্তারক্ত জখম প্রাপ্ত অবস্থায় দেখিতে পাই।

 

আমার দৃঢ় বিশ্বাস সকল আসামীগনসহ আরও অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন আসামীরা গত (২০ জুন) আনুমানিক বিকেল ৪ ঘটিকা হইতে উক্ত তারিখ বিকেল ৫:১৫ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময়ে টাঙ্গাইল সদর থানাধীন বিশ্বাস বেতকা সাকিনস্থ সুপারী বাগান রোড সৃষ্টি একাডেমিক স্কুলের আবাসিক ভবনে একই উদ্দেশ্যে পৃর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনাস্থলে মারপিট ও শ্বাসরোধ করিয়া এবং অন্য কোন ভাবে হত্যা করতঃ লাশ গুম করার অপচেষ্টায় ব্যর্থ হইয়া মৃত্যু নিশ্চিত জানিয়াও টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিয়া গিয়াছে। স্থানীয় লোকজনদের নিকট সংবাদ পাইয়া টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে আসিয়া আমার ছেলের মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের লক্ষ্যে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল টাঙ্গাইল মর্গে প্রেরণ করেন।

পরবর্তী আমার ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে আমার শ্বশুড় ইসমাইল হোসেন (৭৫) লিখিতভাবে থানায় মৃত্যুর সংবাদ দিলে টাঙ্গাইল সদর থানায় অপমৃত্যুর মামলা নং ৩৪ গত (২০ জুন) রজু করা হয়। সকল আসামীগণসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন আসামী সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ভাবে আমার শিশু পুত্র শিহাবকে অমানুুষিক ভাবে মারপিট ও শ্বাসরোধ করিয়া এবং অন্য কোন ভাবে হত্যা করিয়াছে। ঘটনার স্বাক্ষী আছে। তাহারা বিচারামলে ঘটনা প্রমাণ করিবে।

প্রকাশ থাকে যে, আমার স্বামী বিদেশ হইতে দেশে চলে আসায় এবং আমার একমাত্র নাবালক শিশু সন্তানের দাফন কাফনসহ মানুষিক ভাবে বিপর্যস্থ হইয়া পড়ায় অভিযোগ করিতে কিছুটা বিলম্ব হইল। (এজাহারের কিছু চুম্বুক অংশ প্রকাশ করা হলো)।

ব্রেকিং নিউজঃ