সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত মিলে একটা ষড়যন্ত্র করছে- আব্দুর রাজ্জাক

93

স্টাফ রিপোর্টার ॥
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথের মানুষ। তাদের রাজপথের আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ হবে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতাকর্মীই রাজপথে আন্দোলন করেছেন, জেল-জুলুম খেটেছেন, মামলা-মোকাদ্দমা মোকাবিলা করেছেন। আগামী দিনেও যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, লোকজনকে দেখানোর জন্য আন্দোলনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি। তারা প্রতিদিন উসকানিমূলক কথাবার্তা, শ্লোগান ও কর্মসূচি দিচ্ছে। রাস্তাঘাট অবরোধ-আটকে মানুষের চলাফেরায় ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। তারা অহেতুক পুলিশের উপর আক্রমণ করে। প্রতিদিন আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার মতো কোনও কারণ নেই। সরকারের দায়িত্ব মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সেটিই বর্তমান সরকার করছে।




শনিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় সমবায় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএনপি আন্দোলনে কোনও দিন সফল হয়নি উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াত মিলে একটা ষড়যন্ত্র করছে। এই যে উন্নয়ন তা রাজাকার-আলবদরদের ভালো লাগে না। রাজাকার আলবদররা মনে করে যে তাদের ছাড়া দেশ চলবে না। অথচ দেশ আরও ভালোভাবে চলছে। আমরা ভালো করলে তারা সমালোচনা করে বলে দেশ চলছে না। ওরা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করে আন্দোলন করতে চায়। সংগ্রাম করে শেখ হাসিনার পতন ঘটাতে চায়। প্রত্যেকদিন ওরা বলে শেখ হাসিনা পলাবার রাস্তা পাবে না।




কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০১৪ সালে বিএনপি একটানা তিন মাস আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও, গাড়ি ভাঙচুর, মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ তান্ডব চালিয়েছিল। তখনও তারা সফল হয়নি। খালেদা জিয়া লজ্জাবনত মাথায় মুখে কালিমা মেখে ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন। তিন মাসেও সফল হয়নি। আর এখন উসকানিমূলক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ডের মাধ্যমে তান্ডব সৃষ্টি করে সফল হতে পারবে না। তাদের জনগণ প্রতিহত করবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের নামে ২০১৪ সালের মতো সহিংসতা করতে চাইলে বিএনপিকে সমুচিত শিক্ষা দেয়া হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে সকল ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তা অনেকের কাছে ভাল লাগে না। রাজাকার, আলবদর, জামায়াতসহ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও বিএনপি দেশের উন্নয়ন দেখতে চায় না। বরং দেশকে ব্যর্থ দেখতে চায়। সেজন্য তারা আন্দোলন করে, ষড়যন্ত্র করে, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। গণতান্ত্রিক সরকারের পতন ঘটাতে চাচ্ছে।




কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, পরাধীন এই দেশটা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযোদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সকল মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে এই দেশকে বঙ্গবন্ধু পরাধীন থেকে স্বাধীন করেছে। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র মুক্ত, সূখী সমৃদ্ধ স্বাধীন একটি বাংলাদেশের। যেটিকে তিনি সোনার বাংলা বলতেন। সেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, সমবায়ের শক্তিকে দেশ গঠনের কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সমবায়ের বিরাট শক্তি রয়েছে। এর সম্ভাবনা অনেক, তবে চ্যালেঞ্জও অনেক। সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করতে পারলে দেশে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ান সম্ভব। কিন্তু সমবায়ের সমস্যা হলো যাকেই দায়িত্ব দেয়া হয় বা ম্যানেজার হয়, সেই দুর্নীতি করে। দেশের অনেক সমবায় প্রতিষ্ঠান ভালো নেতৃত্বের অভাবে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে ব্যর্থ হয়েছে।




মধুপুর উপজেলা পরিষদ হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমীন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, মধুপুর পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ আহমদ নাসির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আব্দুল গফুর মন্টু, মির্জাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সাদিকুল ইসলাম সাদিক, সমবায়ী বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছানোয়ার হোসেন, ইদিলপুর বহুমুখী আনারস চাষী সমিতির সভাপতি ফজলুল হক, উপজেলা সমবায় অফিসার সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ব্রেকিং নিউজঃ