সম্মেলনে কে হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

132

pageআব্দুল্লাহ্ মাসুদ/ আল ফাহাদঃ

দীর্ঘ ১১ বছর পর আগামী ১৮ অক্টোবর রবিবার টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতো বছর পর সম্মেলনকে ঘিরে জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। জেলার প্রভাবশালী নেতা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যার পর দলীয় অফিস শূন্য হয়ে পড়ে। সম্মেলন উপলক্ষে আবার উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে দলটির কার্যালয়। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে কে হচ্ছেন জেলা কমিটির পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরই মধ্যে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা জোর প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলীয় একাধিক নেতা জানান, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক নতুন সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হবেন, এটা অনেকটা নিশ্চিত। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য এবং বর্তমান জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে রয়েছেন। তিনি দলের কান্ডারি হয়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। এ পদে বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্ষীয়ান নেতা এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তিনিসহ তার সমর্থকরা জানান।
তবে এবার সম্মেলনের মূল আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে দলের সাধারণ সম্পাদক পদকে নিয়ে। এ পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা তাদের প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়ে এরই মধ্যে পোষ্টার-ব্যানার লাগিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলার সাধারণ সম্পাদক পদে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন নিষ্ঠার সাথে- তা নিয়েও চলছে বিভিন্নভাবে বিচার বিশ্লেষণ। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ এর স্ত্রী নাহার আহমদ, বর্তমান কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আলমগীর খান মেনু, সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীতা ঘোষনা দিয়ে তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ ও কাউন্সিলরদের কাছে সর্মথন পেতে ব্যাপক গণসংযোগ করে চলেছেন। পাশাপাশি প্রার্থীরা কেন্দ্রেও জোর লবিং করে যাচ্ছেন।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, সর্বশেষ বিগত ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। সম্মেলন এবং নতুন কমিটি না হওয়ায় দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ে। যথাযথ মূল্যায়ন না থাকায় দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। ফলে তারা দলীয় অনেক কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যান। তবে এবার সম্মেলনে মুলত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হবে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। এ পদের প্রার্থীরা তাদের পক্ষে সমর্থন ও ভোট পেতে প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত সেই পদটি কে পাবেন তার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্মেলনের দিন পর্যন্ত।

ব্রেকিং নিউজঃ