সম্মেলনে এবার ৪৩৯জন কাউন্সিলররা আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচিত করবেন

211

1207মাসুদ আব্দুল্লাহ্ঃ

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এবার ৪৩৯জন কাউন্সিলর তাদের মতামত প্রদানের মাধ্যমে আগামী তিন বছরের জন্য নেতা নির্বাচিত করবেন। কে হতে পারেন পরবর্তী সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক, তা দলের বিভিন্ন স্তরের কোন নেতাকর্মীই নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে অনেকে মনে করছেন এই সম্মেলনের মাধ্যমে একটি পক্ষ পরিবর্তনশীল নেতৃত্ব নির্বাচনের চেষ্টা করছেন। আর অপর পক্ষটি সম্মেলনের মাধ্যমে শক্তি ও জনবল প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরনো নেতৃত্ব বহাল রাখার পক্ষে কাজ করছেন। তবে মাঠ পর্যায়ের কাউন্সিলরদের চিন্তাভাবনা হলো, নেতৃত্বে যারাই আসুক তারা যেন ক্যাডার নির্ভর হয়ে রাজনীতি না করেন। আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গণতন্ত্রের চর্চা হওয়া উচিত। তবে তাদের মূল্য কথা হলো, তারা দলের সফল সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর পূর্ণ আস্থা রেখে সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। জেলার নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন দল তা মেনে নিবেন বলে জানান অনেক কাউন্সিলরা।
এরই মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো টাঙ্গাইল জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন। শুধু আওয়ামী লীগই নয়, অন্য সকল রাজনৈতিক দলেও চলছে হিসেব নিকেশ। যে কোন জায়গাতেই এখন জেলার সূধি মহল, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, সাংস্কৃতিক অঙ্গণ ও খেলাধুলার মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মুখে আলোচনা এখন শুধু একটিই, কে হচ্ছেন- টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক?
রবিবার বেলা ১১টায় টাঙ্গাইল আউটার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দেশের জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এতোবড় ব্যয়বহুল এবং ডিজিটাল সম্মেলনের প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। সম্মেলনে লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি উপজেলা শহরে কমপক্ষে ১০টি করে এবং জেলা সদর ও শহরে প্রায় তিন শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সেই সাথে সম্মেলনস্থলে ও এরআশপাশে রয়েছে ২১টি সিসি ক্যামেরা।
বিগত ২০০৪ সালের ৫ জানুয়ারী সর্বশেষ টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সম্মেলনে শামসুর রহমান খান শাহজাহানকে সভাপতি ও ফজলুর রহমান খান ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতিসহ ১৩ জন সদস্য ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এছাড়া ৩ বছরের নির্বাচিত কমিটি পার করেছে দীর্ঘ ১১ বছর। নানা কারণে সম্মেলন না হওয়ায় কমিটির অনেক সদস্যই ঝিমিয়ে পড়েছিলেন।
এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে নেতৃত্ব নিয়ে দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা রকমের লবিং-গ্রুপিং। নেতাদের জোর তদ্বির চলছে কেন্দ্রেও। তারপরও দলের কান্ডারী হিসেবে ফজলুর রহমান খান ফারুক আওয়ামী লীগের একক নেতা হিসেবে মাঠ দখলে রেখেছেন। তিনি জানান, সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। গণতান্ত্রিকভাবে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরো জানান, কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নের্তৃবৃন্দের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সভাপতি পদে ২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জনের নাম জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন- সভাপতি পদে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সাংসদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান খান ফারুক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্ষিয়ান নেতা এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক। সভাপতি পদে অন্যদের নাম আলোচনায় আসলেও শেষ পর্যন্ত ফজলুর রহমান খান ফারুকই এ পদের জন্য যোগ্য মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।
তবে এবার সম্মেলনে মুলত নেতৃত্বের জোর প্রতিযোগিতা হবে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে। এ পদের প্রার্থীরা তাদের পক্ষে সমর্থন ও ভোট পেতে প্রতিটি উপজেলায় কাউন্সিলরদের কাছে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কাঙ্খিত সেই পদটি কে পাবেন তার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সম্মেলনের দিন পর্যন্ত। সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ফারুক আহমদ এর স্ত্রী নাহার আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট আলমগীর খান মেনু, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান খান স্মৃতি।

ব্রেকিং নিউজঃ