সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ বছর ধরে বাক্সবন্দী পড়ে আছে জেনারেটর

80

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটরটি ১৩ বছর ধরে ও দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন তিন বছর ধরে বাক্সবন্দী পড়ে আছে। ফলে হাসপাতালের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্র বাক্সতে বন্দী থেকেই অকেজো হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকার অপচয় হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভান্ডাররক্ষক (স্টোরকিপার) লুৎফর রহমান টিনিউজকে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ২০০৮ সালের (৫ জুলাই) এ হাসপাতালের জন্য ৫০ কেভিএর একটি জেনারেটর বরাদ্দ আসে। এছাড়া বিগত ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে দুটি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তিনটি যন্ত্র বরাদ্দ দিলেও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে কোনো প্রকৌশলী ওই যন্ত্রগুলো স্থাপন করতে আসেননি। ফলে দিনের পর দিন ওই সব যন্ত্র হাসপাতালের সিঁড়িকোঠার ভেতর একটি নোংরা কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট শাহীনুর আলম টিনিউজকে বলেন, জেনারেটরটি এতো বড় যে এটা চালু করার জন্য দু’জন দক্ষ চালক লাগবে। ঘণ্টায় ১০ লিটার জ্বালানি খরচ হয়। স্থাপন করার পর যন্ত্রটি চালু করার আগে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকার বৈদ্যুতিক তার কিনতে হবে। এ ধরনের ভারী একটি জেনারেটর সাধারণত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ হয়।
তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন এ হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার জানামতে ওই জেনারেটরটি ইনস্টল করতে স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ হাসপাতালে আসেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসা কর্মকর্তা টিনিউজকে বলেন, জেনারেটরটি চালু হলে পুরো হাসপাতালসহ চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনে কাজে আসত। জেনারেটরটি ব্যবহারের অভাবে লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রটি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া দু’টি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন প্রায় তিন বছর ধরে বাক্সবন্দী হয়ে পড়ে আসছে। এতে রোগীদের কাজে আসছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান মাসুদ খান টিনিউজকে বলেন, বড় জেনারেটর চালু থাকলে বেশি ভালো হতো। তবে এখন স্বাভাবিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়। সেজন্য ছোট ও পুরোনো একটি জেনারেটর সচল রয়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিং হলে ওই পুরোনো জেনারেটরই একমাত্র ভরসা।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান টিনিউজকে বলেন, আপাতত পুরোনো জেনারেটর দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) নামের একটি প্রকল্প এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুতই চালু হচ্ছে। এ প্রকল্প চালু হলে তখন ওই বাক্সবন্দী জেনারেটরটি কাজে লাগানো হবে। এছাড়া দু’টি আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন বরাদ্দ দেওয়ার পর স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের দক্ষ লোকজন কয়েকবার হাসপাতালে এসেও তাঁরা মেশিন দু’টি চালুই করতে পারেননি। সম্প্রতি আরেকটি নতুন আলট্রামেশিন বরাদ্দ মিলেছে। ইতিমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ