সখীপুরে ১৪ বছর পর ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

113

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর থানার পুলিশ ১৪ বছর পর ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম আবু সাঈদ তালুকদার (৪২)। তিনি উপজেলার গড়গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাঈদকে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আবু সাঈদ ১৪ বছর ধরে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন।
পুলিশ জানায়, আবু সাঈদ সখীপুর পৌর শহরের কচুয়া সড়কে গাউজ ভান্ডারি কাগজ বিতান নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে প্রবাসীদের ব্যাংক ড্রাফটের ব্যবসা করতেন। তার বাবা সখীপুর পিএম পাইলট মডেল গভর্নমেন্ট স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। আবু সাঈদ সখীপুর বাজার বণিক সমিতির বিভিন্ন সদস্যের কাছ থেকে মাসিক হারে লভ্যাংশ দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে হঠাৎ গা ঢাকা দেন। বিগত ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওই বাজারের বণিক সমিতির সদস্য মামুন মিয়া টাঙ্গাইল আদালতে আবু সাঈদকে আসামি করে সাড়ে ১৩ লাখ টাকার ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলা করেন। ওই বছরই তার নামে আদালত থেকে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসে। বিগত ২০০৮ সালে আবু সাঈদের ৫ বছরের সাজা হয়।
সখীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সানিউল আলম টিনিউজকে বলেন, আবু সাঈদ ২০০৭ সালে পালিয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়া চলে যান। সেখানে শরৎনগর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। ওই সংসারে তার আট ও দুই বছরের দুটি মেয়ে আছে। ১৪ বছর ধরে তিনি সেখানে বসবাস করছেন। এক মাস আগে আবু সাঈদকে ধরতে আমি ছদ্মবেশে তার গ্রামের বাড়িতে ভাড়া থাকার জন্য যাই। পরে ঢাকায় থাকা সাঈদের মায়ের মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করি। সেই নম্বরের সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করি। আবু সাঈদকে ধরতে এএসআই এনামুল হক সার্বিক সহযোগিতা করেন। আবু সাঈদ সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালতেন।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে সাইদুল হক ভুঁইয়া টিনিউজকে বলেন, আবু সাঈদের ৫ বছরের সাজা হয়েছিল। তিনি সখীপুর থানার সবচেয়ে পুরোনো পলাতক আসামি ছিলেন।

ব্রেকিং নিউজঃ