সখীপুরে ১২ ফুট শিকলে ১ যুগের বেশি বাধাঁ প্রতিবন্ধী শহিদুল

77

মোস্তফা কামাল, সখীপুর ॥
১২ ফুটের শিকলে এক যুগের বেশি সময় ধরে বাঁধা মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুল ইসলাম (৩৫)। মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুল টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দনপুর গ্রামের মৃত. আজিম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা টিনিউজকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির পাশে একটি গাছের সঙ্গে শিকলবন্দি অবস্থায় বেঁধে রাখা হয় মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুলকে। লোহার চাকতি লাগানো শিকল দুই পাঁয়ে পরানো আর শিকলে লাগলো হয়েছে ২টি বড় তালা। দিনে বাড়িতে গাছের সাথে আর রাতে ঘরে চৌকির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় তাকে। মাঝে মাঝে নজরদারি রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছেড়া দেওয়া হলে স্থানীয় বাজারে সে ঘোরাঘুরি করে। কেউ কাছে গেলে কোন কথাই বলে না।
মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুলের বৃদ্ধ মা কাজুলি বেগম টিনিউজকে জানান, তিন ছেলের মধ্যে শহিদুল সবার ছোট। মেজ ছেলে কয়েক বছর আগে মারা যায়। জন্মের কিছুদিন পর হঠাৎ প্রতিবন্ধীর মতো হয়ে পড়ে শহিদুল। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ও কবিরাজ দিয়ে তাকে চিকিৎসা করানো হয়। এরপরও সুস্থ হয়নি শহিদুল। ক্রমেই মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ে। সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক চলে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়ে পায়ে শিকল পড়িয়ে আটকে রাখা হয় তাকে।
তিনি টিনিউজকে আরও জানান, শহিদুলের বাবা ৫ বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যায়। অভাবের সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনের উৎস। স্বামীর মৃত্যুর যাওয়ার পর মানুষের সহযোগিতায় কোন রকমে সংসার চালিয়ে যাচ্ছি। বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। শহিদুলকে নিয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছি। এরপরও মায়ের হাতে ছাড়া খাবার খায় না সে।
মহানন্দনপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন টিনিউজকে বলেন, শহিদুলকে একটি ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে ৭৫০ টাকা পান সে। সেই টাকা দিয়েই কোন মতে তার খাবারের ব্যবস্থা করে তার মা।
প্রতিবেশী ও ওয়ার্ড় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন টিনিউজকে বলেন, শহিদুল ও তার মা একসঙ্গে থাকে। তারা অসহায়। যা ভাতা দেয়া হয়, তাতে চলে না। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসাও হয়নি। চিকিৎসা করাতে পারলে শহিদুল সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চিত্রা শিকারী টিনিউজকে বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী শহিদুলকে শিকলবন্দি রাখার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ^াস দিয়েছের তিনি।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ