সখীপুরে রায়হানকে হত্যার কথা স্বীকার করে সৎ বাবার জবানবন্দি

116

3f198967415ef7b4d2a5ea4bbf900c0e-High-Court-1_2সখীপুর সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের সখীপুরে শিশু রায়হানকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তাঁর সৎ বাবা রিপন। গত শুক্রবার টাঙ্গাইল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে তিনি ওই জবানবন্দি দেন। পুলিশ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে রায়হান কালিহাতীর বল্লা গ্রামের নানির বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর বেলা দুইটার দিকে সখীপুর উপজেলার ছোটচওনা এলাকার বন থেকে রায়হানের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে সখীপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনায় ওই দিন রাতেই সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুস সামাদ বাদী হয়ে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। গত ২০ ডিসেম্বর রায়হানের মা আলেয়া বেগম সখীপুর থানায় এসে পুলিশের কাছে থাকা ছবি ও পরনের কাপড় দেখে ছেলের লাশ শনাক্ত করেন।
রায়হানকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁর সৎবাবা রিপনকে (২৪) গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কালিহাতী উপজেলার বল্লাবাজার থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া রিপন গত শুক্রবার বেলা তিনটায় আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
সখীপুর থানার এসআই শামছুল হক বলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড়বাসালিয়া গ্রামের মোশাররফ হোসেন কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রী আলেয়া ও ছেলে রায়হানকে নিয়ে কালিহাতীর বল্লা বাজার এসে ভাড়া বাসায় ওঠেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে আলেয়া ছেলে রায়হানকে সঙ্গে নিয়েই বল্লা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী রিপনকে বিয়ে করেন। রিপন গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশকে বলেছিল, রায়হান তাঁদের নতুন সংসারে বোঝা হওয়ায় তিনি তাকে দুনিয়া থেকে সরে ফেলানোর পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে মাহফিলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি রায়হানকে নিয়ে সখীপুরের ছোটচওনা এলাকার বনে নিয়ে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করে ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে লাশ জঙ্গলে ফেলে চলে যান।
সখীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শামছুল হক বলেন, ‘রায়হানের লাশ শনাক্ত হওয়ার পর রিপন পালিয়ে বেড়ান। রিপনকে গ্রেপ্তার করার পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়।

ব্রেকিং নিউজঃ