সখীপুরে মোবাইল ফোন না দেয়ায় ছেলের আত্মহত্যা

70

সখীপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ঘোনার চালা গ্রামের বাসিন্দা ছালমা বেগম। মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল নয়টার দিকে মেয়েকে নিয়ে মা সখীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। কেন্দ্রে পৌছানোর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ছালমা বেগম বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন ঘরে তাঁর একমাত্র ছেলের লাশ ঝুলছে।
মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত ওই কিশোরের নাম আশিক আহমেদ (১৩)। সে ঘোনারচালা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছালমা বেগমের স্বামী আলী আকবর মালয়েশিয়া প্রবাসী। ছালমা বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে ঘোনারচালা গ্রামে থাকেন। ছালমা বেগম জানান, আশিক বেশির ভাগ সময় তাঁর মুঠোফোন নিয়ে গেমস খেলত। মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) সকালে মেয়েকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সময় আশিক মায়ের মুঠোফোনটি বাসায় রেখে যাওয়ার জন্য বায়না ধরে। কিন্তু তিনি ফোন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে যান। তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আশিককে কান্না করতে দেখেছিলেন।
নিহত আশিকের মা ছালমা বেগম বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর আশিকের দাদি ঘরে দেখেন গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় আশিকের লাশ ঝুলে আছে। খবর পেয়ে ছালমা বেগম বাড়িতে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। আশিকের স্বজনেরা ধারণা করছেন, মায়ের কাছে মুঠোফোন না পেয়ে আশিক ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবর রহমান টিনিউজকে জানান, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মুঠোফোন না দেওয়ায় ওই স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান টিনিউজকে বলেন, অল্প বয়সী ছেলেমেয়েদের জন্য মুঠোফোন ও গেমস খেলা এক ধরনের মারাত্মক নেশা। মুঠোফোনের নেশায় আসক্ত হয়ে অনেক কিশোর-কিশোরীরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ