সখীপুরে মা ছেলেকে বটি দিয়ে কুপিয়ে মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

170

1207স্টাফ রিপোর্টারঃ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মা তাঁর ছয় বছরের ছেলেকে বটি দিয়ে এলোপাথারি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। পরে ওই মা নিজেই নিজের মাথা কুপিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মুমূর্ষূ অবস্থায় বুধবার দুপুরে প্রতিবেশীরা ওই মা ফরিদা বেগম (২৮) ও শিশু শরীফকে বিকেলে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার নলুয়া গ্রামে শিশুটির বাবা রফিকুল ইসলাম (৩৮) নলুয়া বাজারে মাছের ব্যবসা করে। গত ১৪ বছর ধরে ভালুকা থানার তামাট গ্রামের রফিকুল ফরিদাকে বিয়ে করে ঘরজামাই থাকে। ফরিদার সঙ্গে স্বামীর বনাবনি ছিল না। কিছুদিন ধরে ফরিদা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্বামী রফিকুল জানান, বুধবার দুপুরে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে ফরিদা তার জমজ সন্তান শরীফ ও আরিফকে নিয়ে বাড়ির দক্ষিণ পাশে গিয়ে হঠাৎ বটি দিয়ে ছেলে শরীফকে কোপাতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে অপর জমজ ভাই আরিফ ভয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মা ফরিদা নিজেই নিজেকে বটি দিয়ে কোপাতে থাকে। তাদের ডাকচিৎকারে আমি ও আশপাশের লোকজন চলে এসে আহত শরীফকে সখীপুর হাসপাতালে নিয়ে যাই। প্রতিবেশী হাশেম মিয়া বলেন, দাম্পত্য কলহের কারণে ফরিদা মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। কিছুদিন ধরে রফিকুল রোজগার করলেও ফরিদা ও সন্তানদের খোঁজ-খবর রাখতো না। ফলে ফরিদার সন্দেহ ঢুকে রফিকুল অন্য কোথাও বিয়ে করেছে।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা রোকেয়া বেগম বলেন, শিশুটির কাধে, ঘাড়ে ও কানসহ গলায় ৮-১০টা মারাত্মক কোপের চিহ্ন রয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় মা ও শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সখীপুর থানার (ওসি) মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, এ বিষয়ে এখনও কেউ মামলা করেননি। তবে ঘটনাটি শুনে আমি নলুয়ায় ফরিদাদের বাড়িতে গিয়েছি। ফরিদা কয়েক মাস ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেশীরা তাঁকে জানায়।

ব্রেকিং নিউজঃ