সখীপুরে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ

75

সখীপুর প্রতিনিধি ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) ভোরে উপজেলার ঘাটেশ্বরী এলাকায় একটি ক্লাবে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ওই ক্লাবের সভাপতি মোশাহিদ বাদী হয়ে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন আসামি করে বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে সখীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ভাঙচুর হওয়া ছবি যতœসহকারে উদ্ধার করে সখীপুর থানায় সংরক্ষণ করেন। সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি আরও বলেন, ওই ক্লাবকে ঘিরে এর আগে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। অতএব ঘটনাটি ষড়যন্ত্র কিনা তদন্তপূর্বক তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




জানা যায়, কমপক্ষে ১৫ বছর আগে উপজেলার ঘাটেশ্বরী গ্রামে মানব কল্যাণ যুব সংঘ নামে একটি ক্লাব গঠন হয়। বছর দশেক আগে দুটি ক্লাবের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একটি খুনের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই ক্লাবের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মাস খানেক আগে স্থানীয় কিছু যুবক ওই ক্লাবটি সংস্কার করেন। এ সময় ওই ক্লাবঘরের জমিদাতা জাহিদুল ইসলাম বাধা দেন। তাঁর জমি থেকে ক্লাবটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ক্লাবের সদস্যদের অনুরোধ করেন। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) ভোরে জাহিদুল ও তার লোকজন নিয়ে ওই ক্লাব ঘরের বেড়া খুলে ফেলে দেন। বেড়া খুলে ফেলে দেওয়ার সময় ওই ক্লাবে থাকা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও ভাঙচুর করার অভিযোগ করেন ক্লাবের সদস্যরা।




মানব কল্যাণ যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাকিব সিকদার বলেন, জাহিদুল আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সময় তিনি ক্লাবের জন্য জমি দান করেন। এখন তিনি দল বদল করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ করছেন। তিনি যেহেতু ক্লাব ঘরটি ভেঙেছেন সেহেতু তিনি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভেঙেছেন।




কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সমর্থক দাবি করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরাও ভালোবাসি। মানব কল্যাণ ক্লাবের ছেলেরাই আমাকে ফাঁসাতে ওই ছবি দুটি ভেঙে নাটক সাজিয়েছেন। ছবি দুটি ভাঙার পেছনে তিনি দায়ী নন বলে দাবি করেন। বিকেলে সরেজমিন ওই গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই ক্লাবের দুটি টিনের বেড়া খুলে একটি পাশেই আরেকটি পাশের ডোবায় পড়ে আছে। ক্লাবের ভেতর কাঁচ ভাঙচুর অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই দুটি ছবি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জন তালুকদার মুঠোফোনে বলেন, ছবি ভাঙচুরের কোন প্রত্যক্ষদর্শী নেই। তাই অধিকতর তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে চরম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।




এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি যারা ভেঙেছেন তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ