সখীপুরে পাকা রাস্তার আশায় ৫১ বছর অপেক্ষা ২৫ গ্রামের মানুষের

89

মোস্তফা কামাল, সখীপুর ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বড়চওনা-মরিচা ভায়া মহানন্দপুর আঞ্চলিক সড়কটি যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও পাকা না হওয়ায় ২৫টি গ্রামের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। বহু বছর ধরেই সখীপুর উপজেলার উত্তরাঞ্চলের বড়চওনা-মরিচা ভায়া মহানন্দপুর কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের দাবি করে আসছেন এলাকাবাসী। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়তই মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কাঁচা সড়ক পাকা হবে এ আশায় এলাকাবাসী ৫১ বছর ধরে অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু আশা আর পূরণ হয় না।

সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা অসন্তোষ আর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুকনো মৌসুমে ধুলোবালি আর বর্ষায় কর্দমাক্ত সড়কে হেঁটে চলাও দুষ্কর। সড়কে যাতায়াতকারীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য লোকজনকে কাদা ভেঙে যাতায়াত করতে হয়। ফলে কোনো ভ্যান, সাইকেল, মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, মানুষের পায়ে হেঁটে চলতেও কষ্ট হয়। এ সড়ক দিয়ে বড়চওনা, শিশিরচালা, জিতেশ্বরী, বাসারচালা, মহানন্দপুর, মরিচকুড়ি, কইস্টার বাজার, পাগারপাড়, আইলসার বাজার, দুর্গাপুর, মামুদ নগর, সাপিয়ারচালা, মরিচা, তারাকুড়ি, ছাতিয়ারচালা, হারিঙ্গাচালাসহ বিভিন্ন গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে থাকে। বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় এলাকাবাসী বাধ্য হয়েই কাদা-পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছেন।

 

দুর্গাপুর বাজারের চা-বিক্রেতা পরিমল বর্মণ টিনিউজকে বলেন, গ্রামের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিনেও পাকা করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে কর্দমাক্ত সড়ক দিয়ে গ্রামবাসীকে চলাচল করতে হয়। এখানকার মানুষজন কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটে বাজারে নিয়ে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বহনে গুনতে হয় তিনগুন ভাড়া। দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হক টিনিউজকে বলেন, বর্ষায় রাস্তা খারাপ থাকায় উপজেলা শহরে যাওয়া-আসায় ১৬০ টাকা ভাড়া লাগে। অন্য সময় এ ভাড়া মাত্র ২০-৩০ টাকা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হাট বাজারে নেওয়া যায় না। স্থানীয় মামুদ নগর (দুর্গাপুর) দাখিল মাদ্রাসার সুপার শহীদুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, এ সড়কটি দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার। প্রথম ও শেষ অংশে ৩ কিলোমিটার পাকা হলেও ৮ কিলোমিটার কাঁচা রয়েছে। এই ৮ কিমির মধ্যেই প্রাথমিক, মাধ্যমিক পর্যায়ের ২৫-২৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেঁষে ওই সড়কটি চলে গেছে জানিয়ে বলেন, ২০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে কাদা-পানি মাড়িয়ে আসতে হচ্ছে এবং বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা কাঁচা সড়কটি ব্যবহার করেই পড়াশোনা করছেন।’ অবহেলিত সড়কটি কর্তৃপক্ষের কাছে পাকাকরণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস টিনিউজকে বলেন, ১১ কিলোমিটারের কাঁচা ওই সড়কটি বিভিন্ন সময়ে ৩ কিলোমিটার পাকা হয়েছে। আরও ১ কিলোমিটার পাকাকরণের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। বাকি কাঁচা সড়কটুকু পাকাকরণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ