সখীপুরে নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

234

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী আজহারুল ইসলামের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় তাঁকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। নির্বাচনে জয় পাওয়ার সাত দিনের মাথায় এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।




সোমবার (২৪ জুলাই) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এ তথ্য জানানো হয়। আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, বড়চওনা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন ইউসুফ আলী ভূঁইয়া। মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আজহারুল ইসলাম।




এ কারণে ১২ জুলাই সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম ৪ হাজার ৫৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নৌকা প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৪৪৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন ইউসুফ আলী। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য জোয়াহেরুল ইসলামের বেয়াই (ভাতিজির শ্বশুর)। এরপর ২৩ জুলাই আজহারুল ইসলাম বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। ভবিষ্যতে সংগঠনের স্বার্থ পরিপন্থী কার্যক্রম না করার শর্তে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।




বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আজহারুল ইসলাম বলেন, এ জন্য বড়চওনা ইউনিয়নবাসীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ইউনিয়নবাসী আমাকে ভোট না দিলে আমি হয়তো আর দলে ফিরে যেতে পারতাম না। দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এর আগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাজাহান বলেছিলেন, বড়চওনা ইউনিয়নে তৃণমূলের সুপারিশ নিয়ে আজহারুল ইসলামের নাম পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় তিনি জেলা থেকে আজহারুল ইসলামের নাম কেটে তাঁর বেয়াই ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার নাম কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। তিনি আত্মীয়দের মনোনয়ন দেওয়াতে নৌকার ভরাডুবি হয়।




উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত শিকদার জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য তাঁর বেয়াইকে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য বানিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সুপারিশ করেন। প্রকৃতপক্ষে ইউসুফ আলী ভূঁইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য নন।