সখীপুরে দুই ইউনিয়নের মামলার বেড়াজাল শেষ ॥ আপিল খারিজ

116

সখীপুরস্টাফ রিপোর্টারঃ

অবশেষে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার সাত বছর পর শেষ হলো টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তিকরণ বিষয়ে দুইটি ইউনিয়নের নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ মামলার বেড়াজাল। গত বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতে করা (হাইকোর্ট) আপিল মামলা খারিজ হওয়ার মাধ্যমে এ জটিলতার নিরসন হলো। আপিল বিভাগের বিচারপতি কাজি রেজাইল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের সমন্বিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ রায়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের ২০১১ সালের আদেশ বৃহত্তর যাদবপুরকে ভেঙে নবগঠিত ‘বহুরিয়া’ ও ‘যাদবপুর’ ইউনিয়নের নাম বহাল রাখা হয়। প্রতিপক্ষের আইনজীবি ছিলেন ব্যারিস্টার গোলাম নবী ও ব্যারিস্টার রাজীব রউফ চৌধুরী। বৃহত্তর যাদবপুর ইউনিয়নে সর্বশেষ ২০০২ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উচ্চ আদালতের চুড়ান্ত এ রায়ের খবর শুনে দুই ইউনিয়নের ভোটাররা উল্লাস প্রকাশ করেছেন।
ভোটার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিধিমালা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু বৃহত্তর এ যাদবপুর ইউনিয়ন বিভক্তিকরণ বিষয়ে ইউনিয়নের নামকরণ ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। এক পর্যায়ে জটিলতা মামলায় গড়ায়। এ সুযোগে পাঁচ বছর মেয়াদী ২০০২ সালে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পরিষদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন ১৩ বছর ধরে। ফলে পরিষদের মেয়াদ দীর্ঘায়ু হওয়ায় নির্বাচিত ওই পরিষদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়তে থাকে ওই দুইটি ইউনিয়নের ভোটার ও জনসাধারণের মধ্যে। অন্যদিকে ওই দুইটি ইউনিয়নে দ্রুত নির্বাচনের দাবিতে ভোটাররা ‘সংগ্রাম পরিষদ’ নামে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে ওই কমিটির মাধ্যমে নানা কর্মসূচি পালন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ ২০০৬ সালে উপজেলার বৃহত্তর ইউনিয়ন যাদবপুরকে ভেঙে ‘যাদবপুর’ ও ‘কালমেঘা/কালিদাস’ নামকরণ করে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে প্রস্তাব পাঠান। জেলা প্রশাসক স্থানীয় ইউএনও’কে ওই ইউনিয়নকে ভেঙে সীমানা চিহ্নিত করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ইউএনও তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সীমানা চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এলাকাবাসী ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করলে জেলা প্রশাসক তা শুনানী করে ২০১১ সালের ৬ এপ্রিল যাদবপুরকে পুণর্গঠন করে ‘যাদবপুর’ ও ‘বহুরিয়া’ নামকরণ করে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেন। কিন্তু সখীপুরের ইউএনও জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অমান্য করে একই বছরের ১০ এপ্রিল ‘যাদবপুর’ ও ‘কালমেঘা’ ইউনিয়ন নামকরণ করে গেজেট প্রকাশ করেন। পরে বহুরিয়া গ্রামের জনৈক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই গেজেট চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২০১২ সালের ২০ জুন হাইকোর্ট ওই গেজেটটি স্থগিত করে ২০১১ সালে জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবটি কার্যকর করার আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ২০১৩ সালের ২৫ এপ্রিল ‘যাদবপুর’ ও ‘বহুরিয়া’ ইউনিয়ন নামকরণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এদিকে ওই গেজেটকে চ্যালেঞ্জ করে ২০১৩ সালের ২৭ মে বহুরিয়া গ্রামের জনৈক শামসুল হক জুয়েল বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ওই দুইটি ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়।
নির্বাচন ‘সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ডিএম শরিফুল ইসলাম শফি টিনিউজকে বলেন, ‘মামলার কারণে এ দু’টি ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক সব কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিরাও নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। দ্রুত এ দুইটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।’
যাদবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতোয়ার রহমান অভিযোগ করে টিনিউজকে বলেন, ‘এক যুগ মেয়াদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ভিজিএফ, ভিজিডির চাল আত্মসাৎ, ভুয়া প্রকল্প ও ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে টাকা তুলে একের পর এক মামলা করেছেন। মামলা চালাতে সদস্যদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ দুইটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দাবি করেন।’
বর্তমান চেয়্যারম্যান খন্দকার বজলুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে টিনিউজকে বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই।’
প্রতিপক্ষের আইনজীবি ব্যারিস্টার গোলাম নবী মুঠোফোনে টিনিউজকে জানান, ‘অ্যাপিলেন্ট পক্ষের আবেদন শুনানী সাপেক্ষে খারিজ হওয়ায় ওই দুইটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনগত আর কোনো বাধা নেই।’
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন মুঠোফোনে টিনিউজকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনা এখনও হাতে পাইনি। আদেশ পেলে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ব্রেকিং নিউজঃ