সখীপুরে জুতা ছাড়া জয়নাল মেম্বার এবার নির্বাচনে হার মানলেন

221

মোজাম্মেল হক ॥
জুতা ছাড়া জয়নাল মেম্বার এবার নির্বাচনে পাস করতে পারলেন না। হেরে গেলেন প্রতিদ্বন্দ্বী বাবুল মিয়ার নিকট ১৯৭ ভোটের ব্যবধানে। কথা বলছিলাম সখীপুরে কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের দুই বার মেম্বার পদে বিজয়ী ও বর্তমান মেম্বার (১১ নভেম্বর) নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত জয়নাল আবেদীনের সাথে।
তার বাড়ী সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দাপুর এলাকার বাশার চালায়। বাবার নাম মৃত গফুর মিয়া। তিনি কালিহাতী আউলিয়াবাদ কলেজ অফিস সহকারী পদে চাকরীতে অবসরের পর নিজ এলাকায় পোল্ট্রি ব্যবসায় সাথে যুক্ত আছেন। ব্যবসার পাশাপাশি ৬৬ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন এলাকার মানুষের বিপদে আপদে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারে নির্বাচনে প্রার্থী হন। তিনি বিগত ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২ এবং বিগত ২০১৬ থেকে নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত মেম্বার ছিলেন। এলাকায় তিনি জুতা ছাড়া মেম্বার হিসেবে খুবই পরিচিত। তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন সর্বত্র। তিনি বাড়ীতে, অফিস আদালত, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির থেকে শুরু করে সব জায়গায় সবসময় জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন।
তিনি টিনিউজকে জানায়, জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তার কোন সমস্যা হয় না। পিচের তৈরী পাকা সড়ক কিংবা কাঁচা সড়কে খালি পায়ে চলে তার পায়ে কখনও ব্যথা পাননি। জনপ্রিয়তার কারণে কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সংগঠনের তিনি সভাপতি পদে আছেন। ৩ মেয়ে ও ১ ছেলের বাবা জয়নাল আবেদীন জুতা ছাড়া চলাফেরা করার ব্যাপারে টিনিউজকে জানান, তিনি ডাঃ আজহারুল ইসলামের মুরিদ। তিনি তার মুরিদ হয়েই পীরের কথামত জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন। জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তিনি স্বাছন্দ বোধ করেন। এ বিষয়ে তার পরিবার থেকে শুরু করে কেউ তার এ কাজে বিরোধীতা করেনি। বরং জুতা ছাড়া চলাফেরা করে তিনি অনেক উপকার পান। এ বয়সে তার কোন বড় ধরনের রোগ্যব্যাধি হয়নি, চোখের জ্যোতিও কমেনি। তিনি তিন মেয়ে (জোহরা আক্তার, জয়নব আক্তার ও শিরিন আক্তার) কে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে সিয়াম আহমেদ ৮ম শ্রেনীর ছাত্র।
তিনি এবার নির্বাচনে পরাজিত হলেও আগামী নিবার্চনে প্রার্থীতা ঘোষনা করবেন। তিনি বিজয়ী প্রার্থী বাবুলের জন্য শুভ কামনা করে বলেন, সেই সাথে তিনি পরাজিত হলেও জনগনের সেবা আজীবন করে যাবেন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ