সখীপুরে এ বছর ১১ মাসে ১২’শ বিয়ে বিচ্ছেদ

113

bibah-2-644x320স্টাফ রিপোর্টারঃ
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় বাল্য বিয়ের পাশাপাশি বিয়ে বিচ্ছেদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিয়ে বিচ্ছেদে স্বামী-স্ত্রীকে, স্ত্রী-স্বামীকে পাঠাচ্ছেন তালাকের নোটিশ। গত ১১ মাসে ১ হাজার ২০৪টি বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা নিবন্ধন করা হয়েছে বলে সখীপুর উপজেলার ৮ ইউনিয়নের কাজী ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৪টি কাজী অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অমনোযোগ, স্বামী কর্তৃক স্ত্রী নির্যাতন, শ্বশুর-শ্বাশুরি কর্তৃক পুত্রবধূ নির্যাতন, পরনারী আসক্তি, স্বামীর মাদকাসক্তি, স্বামীর প্রবাসে থাকা এবং স্ত্রীর ভরণ- পোষণের অনীহাই এসব বিয়ে বিচ্ছেদের মূল কারণ।
সূত্র মতে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বও মাস পর্যন্ত ১১ মাসে ১২টি কাজী অফিসে মেয়ে কর্তৃক (ডি-তালাক), ছেলে কর্তৃক (বি-তালাক) ও উভয়পক্ষের সম্মতিতে (সি-তালাক) এই তিনস্তরের ১ হাজার ২০৪টি বিয়ে বিচ্ছেদ (তালাক) নিবন্ধন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কাজীরা জানান, উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নে ৬৫টি, যাদবপুর ইউনিয়নে ১১২টি, বহুরিয়া ইউনিয়নে ৮৫টি, গজারিয়া ইউনিয়নে ৯৮টি, দাড়িয়াপুর ইউনিয়নে ১০৫টি, কালিয়া ইউনিয়নে ১১০টি, বহেড়াতৈল ইউনিয়নে ৭০টি, কাকড়াজান ইউনিয়নে ১১৩টি ও পৌর সভার ৪টি কাজী অফিসে ৪৪৬টি বিয়ে বিচ্ছেদ (তালাক) নিবন্ধন করা হয়েছে।
কালিয়া ইউনিয়ন নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার (কাজী) মাওলানা মাহবুব জামান বলেন, গত ১১ মাসে তিনস্তরের ১১০টি বিয়ে বিচ্ছেদ (তালাক) রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এদের অধিকাংশ বিয়ে বিচ্ছেদই স্ত্রী কর্তৃক দেয়া হয়েছে।
সখীপুর উপজেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সখীপুর পৌরসভা সদর অফিসের কাজী শফিউল ইসলাম বাদল বলেন, বেশির ভাগ বিয়ে বিচ্ছেদ স্ত্রীরাই করে থাকেন। সামাজিক অস্থিরতা, মাদকাসক্তের প্রভাব, পরস্পরকে ছাড় না দেয়ার মনোভাব, মেয়ের মা কিংবা ছেলের মা-বোনের নির্যাতন, স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা এবং স্ত্রীর ভরণ-পোষণের অনীহাই বিয়ে বিচ্ছেদের মূল কারণ বলে তিনি জানান।

ব্রেকিং নিউজঃ