সখীপুরে আ.লীগের মেয়র প্রার্থী আবু হানিফ আজাদ গত পাঁচ বছরে আরও গরিব হয়েছেন

113

3সখীপুর সংবাদদাতাঃ

টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবু হানিফ আজাদ গত পাঁচ বছরে আরও গরিব হয়েছেন। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেয়া তাঁর গতবার ও এবারের হলফনামা দু’টি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
দু’টি হলফনামায় দেখা গেছে, পাঁচ বছর মেয়র পদে থাকা অবস্থায় তিনি বাড়তি কোনো আয় করতে পারেননি। এই সময়ে তাঁর জমি একটুও বাড়েনি। আসবাব আছে আগেরগুলোই। স্ত্রীর সেই ১৫ ভরি স্বর্ণ এখনো আছে। মোটর সাইকেলও একটাই। নগদ টাকা পাঁচ বছর আগের মতো সেই এক লাখই। ব্যাংকে জমা টাকা আগেও ছিল না, এবারও নেই। পাঁচ বছর আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্ত্রীর নামে ৫ হাজার ৭৮৭ টাকা থাকলেও এবার ব্যাংকে এক পয়সাও নেই। বরং স্ত্রী স্থানীয় মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে ১৫ লাখ টাকা ঋণ করেছেন। গত নির্বাচনের সময় মেয়রের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল। এবার তাও নেই।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আবু হানিফ আজাদ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সহকারী কমান্ডার (সাংগঠনিক) ছিলেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আগে প্রায় ১২ বছর ইতালিতে ছিলেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেনকে ৫৫ ভোটে পরাজিত করে তিনি মেয়র হন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন বলেন, হানিফ সাহেব চালাক লোক। তিনি ধনসম্পদ যা করেছেন সব স্ত্রী ও ছেলের নামে। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তিনি নতুন একটি গাড়ি কিনেছেন। দুর্নীতি ঢাকতে তিনি কৌশলে ওই গাড়ির কাগজপত্র ছেলের নামে করেছেন।
আবু হানিফ আজাদের দু’টি হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাঁচ বছর আগে কৃষি খাত থেকে তাঁর বছরে ৩০ হাজার টাকা ও বাড়তি ভাড়া বাবদ ৩৬ হাজার টাকা আয় ছিল। এবারও তাই। আগের হলফনামায় বছরে ব্যবসা থেকে আয় দেখানো হয়েছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার। এবার তা সামান্য বেড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা হয়েছে। আসবাব ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর সংখ্যা দুই হলফনামায় অভিন্ন। স্ত্রীর নগদ টাকা ১৫ হাজার ও ১৫ ভরি সোনায় কোনো কমবেশি নেই। সব তথ্যে মিল পাওয়া গেলেও ব্যতিক্রম শুধু ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে। গত হলফনামায় থাকলেও এবারের হলফনামায় ওই গাড়িটির কথা নেই।
আবু হানিফ আজাদ বলেন, ‘আমার নামের গাড়িটি বছর খানেক আগে বিক্রি করা হয়েছে। এখন আমি যে গাড়িটি দৌড়াই সেটি আমার ইতালি প্রবাসী ছেলের কেনা। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে ইতালি থাকে। মেয়র ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতায় আমার সংসার চলে। দুর্নীতি করিনি বলেই দল আমাকে আবারও মনোনয়ন দিয়েছে।’
সখীপুর পৌরসভায় মেয়র পদে আবু হানিফ আজাদ ছাড়াও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আয়নাল হক এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ