শেষ সময়ে টাঙ্গাইল পৌরসভা নাগরিক সুবিধা না দিয়ে মার্কেট নির্মাণে ব্যস্ত

913

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল পৌরসভা নির্বাচন আসন্ন। আর এ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলে বর্তমান মেয়রসহ অন্যান্যা প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। হাতে সময় আর মাত্র প্রায় এক মাস। আর শেষ মূহুর্তে ৬ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পৌরসভা মেয়রের বাসবভন ভেঙ্গে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন নির্মান করা দোকানগুলো পৌরসভার কাউন্সিলরদের মাঝে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এদিকে এই ৬ নং ওয়ার্ডে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেলের স্ট্যান্ড। এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোর কারণে এই ওয়ার্ডের সকল অপরাধ কর্মকান্ড গড়ে উঠেছে। পৌরসভা নাগরিক সুবিধা না দিয়ে মার্কেট নির্মাণে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ করেছেন পৌরবাসি।
শহরের পার্ক বাজার রোডে দেখা যায়, পৌরসভার মেয়রের জন্য বরাদ্দকৃত বাসভবন ভেঙ্গে সেখানে নির্মান করা হচ্ছে মার্কেট। আর সেই মার্কেটে ইতিমধ্যে ১১টি দোকান নির্মান কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি আরো ১৮টি দোকান নির্মানাধীন। পার্ক বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী টিনিউজকে জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রথমে সেখানে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মানের কথা ছিল। এজন্য সেখানে মাটি ও সয়েল টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতের সেখানে পাইলিংও করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই তারা ভবন নির্মান না করে তড়িঘরি করে মার্কেটের নামে ছোট ছোট টিনশেড দোকান ঘর নির্মান করছেন। আবার সেগুলো ৮/১০ লাখ টাকায় দোকান বিক্রিও করছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী টিনিউজকে জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেই হোক তারা দায়িত্ব নিয়েই আগে কোথায় মার্কেট নির্মান করা যায় সেই বিষয় নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। এজন্য তারা প্রতিবছরই নতুন নতুন মার্কেট নির্মান করেন আর দোকান বরাদ্দ দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। আবার পৌরসভার কেউ কেউ নিজের নামে না নিয়ে তাদের নিকট আত্বীয়ের নামে দোকান বরাদ্দ নিয়ে থাকেন। পৌরসভার শামছুল হক মার্কেটের এক ব্যবসায়ী টিনিউজকে জানান, কোন মার্কেটে টয়লেট করা হলেও পরবর্তীতে সেটি ভেঙ্গে দোকান নির্মান করে তা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ কারণে পৌরসভার অধিকাংশ মার্কেটই টয়লেট ছাড়া। বেতকা এলাকার জলিল হোসেন নামের এক ব্যক্তি টিনিউজকে জানান, বর্তমানে পৌরসভার খালি কোন জায়গা নেই বললেই চলে। কারণ সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে দোকান নির্মান করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। অথচ ‘ক’ শ্রেণীর টাঙ্গাইল পৌরসভায় ময়লা ফেলার কোন ভাগারের জায়গা নেই। এ কারণে ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে শহরের দুই প্রবেশ মূখে।
টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শামছুল হকের ছেলে মাহমুদুল হক সানু টিনিউজকে জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন পৌরসভার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাধে তারা পৌরসভার মেয়রের নির্ধারিত ওই বাসভবনে দীর্ঘ ১৬ বছর থেকেছেন। কিন্তু বর্তমানে সেটি ভেঙ্গে ফেলে সেখানে মার্কেট নির্মান করা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ন নিয়ম বহির্ভূত।
শহরের কলেজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ হোসেন, মাখন মিয়া, আব্দুস সালামসহ অনেকেই টিনিউজকে জানান, পৌরসভার মেয়রের বাস ভবনটি পড়েছে ৬ নং ওয়ার্ডে। যেখানে বর্তমানে দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ এই ওয়ার্ডের পানির ট্যাঙ্কির মোড়, পচাঁ গোলির মোড়, কলেজ পাড়া মোড়, আমঘাটের মোড় এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেলের স্ট্যান্ড। এই অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোর কারণে এই ওয়ার্ডের সকল অপরাধ কর্মকান্ড গড়ে উঠেছে। এছাড়া সবসময়ই তীব্র যানজটের প্রধান কারণ এই অবৈধ স্ট্যান্ড। এসব অবৈধ সিএনজি, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেলের স্ট্যান্ডের কারণে চাঁদাবাজি ও মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এলাকাবাসি চরমভাবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগের পরও অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব স্ট্যান্ড বর্তমান কাউন্সিলর ও পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গড়ে উঠেছে। কাউন্সিলর এসব অবৈধ স্টান্ড উচ্ছেদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করে না। এছাড়া গত ১০ বছরের দুঃখ হলো নিউ মার্কেট রোড থেকে পার্কবাজার হয়ে গোডাউন রাস্তা। এই রাস্তার কোন উন্নয়ন না হওয়ায় জেলার প্রধান পার্ক বাজারে এসে মানুষ ঠিকমতো বাজার করতে পারে না। মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌছায় যখন সামান্য বৃষ্টি হয়। তখন এই সড়কের কথা মনে পড়লেই মানুষ বিরোক্তি হয়ে নানারকম বাজে মন্তব্য করেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর মইনুল ইসলাম লিটন টিনিউজকে জানান, পৌরসভার মেয়রের বাসভবন ভেঙ্গে দোকান নির্মান করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটি তিনি জানেন না।
এসব বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

ব্রেকিং নিউজঃ