শেষ মূহুর্তে ব্যস্ত সময় পার করছে টাঙ্গাইলের কামাররা

48

স্টাফ রিপোর্টার ॥
দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম ঈদুল আজহা। আর মাত্র একদিন পরেই কুরবানির ঈদ। এই ঈদের অন্যতম কাজ হচ্ছে পশু কুরবানি করা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের কামার শিল্পের কারিগররা। কয়লার দগদগে আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করছেন সব ধারালো সামগ্রী। তবে এসব তৈরিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়া লাগেনি। পুরানো সেকালের নিয়মেই চলছে আগুনে পুড়ে লোহা হতে ধারালো সামগ্রী তৈরির কাজ। তবে দ্রব্য মূল্যের দাম কিছুটা বেশি এবং ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। শেষ মুর্হুতে জমে উঠেছে দা, কাচি, হাসুয়া, কোপা, ছুরি চাপাতির বেচাকেনা। ফলে এই মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা।

সরেজমিন শহরের পার্ক বাজার, বেবিস্ট্যান্ড, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড গোডাউন ব্রিজ, কুমুদিনী কলেজ গেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে গমগমে আগুনে লোহা লাল করায় ব্যস্ত বেশির ভাগ কামার। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন তারা। দম ফেলারও সময় নেই তাদের। সবাই কোরবানির পশু জবাই করার দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কামার প্রদিপ টিনিউজকে বলেন, আমি প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এ পেশায় জড়িত। কোরবানীর ঈদ আসলেই আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আমরাও এ সময়ের অপেক্ষায় থাকি। দেশি চাপাতিগুলো কেজি হিসেবে বিক্রি হয় থাকে। প্রতি কেজি ওজনের চাপাতির দাম ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া বিদেশি চাপাতির দাম ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোমল চন্দ্র কর টিনিউজকে বলেন, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। কোনোরকম দিন যায়। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। কুরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। ওই সময় দামও ভালো পাওয়া যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১২০ থেকে ২৫০ টাকা, দা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বটি ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫৫০ থেকে ২ হাজার টাকা, চাপাতি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

থানা পাড়া এলাকার ক্রেতা খাইরুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, কোরবানির ঈদ আর মাত্র তিনদিন বাকি তাই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কেনার কাজটি সেরে ফেলছেন তিনি। বেড়াডোমা এলাকার ক্রেতা বিপ্লব হোসেন টিনিউজকে বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, কাটারির দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের ব্যস্থতায় নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই। তারা পুরোদমে আগামী শনিবার (৯ জুলাই) রাত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান তারা।

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ