শুক্রবার, আগস্ট 7, 2020
Home টাঙ্গাইল শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের কামাররা

শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত টাঙ্গাইলের কামাররা

হাসান সিকদার ॥
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কামার পল্লীগুলো সরব হয়ে উঠেছে। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের জন্য এখন চলছে ছুরি-চাপাতি কেনার হিড়িক। চাপাতি, দা, বটি, চাকু, ছুরিসহ কোরবানির নানা হাতিয়ার তৈরি ও শাণ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের কামাররা। দম ফেলার সময় নেই তাদের। আগুনে তপ্ত লোহাকে হাঁতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে অস্ত্র বানানো কঠিন হলেও সেই তুলনায় পারিশ্রমিক কম বলে অভিযোগ কামারদের।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন কামারপাড়া ও পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, অনেকেই দা, বটি ও ছুরি শাণ দেয়ার জন্য নিয়ে এসেছেন কামারদের কাছে। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের ব্যস্ততা। সার্বক্ষণিক বাতাসে ভাসছে টুং টাং শব্দ। কেউ হাপর টানছেন। কেউবা আগুনে কয়লা দিচ্ছেন। জ্বলন্ত আগুন থেকে লোহা তুলে সমানতালে পেটাচ্ছেন তারা। সেই তপ্ত লোহা থেকে তৈরি হচ্ছে দা, বটি, ছুরি, চাপাতিসহ নানা যন্ত্রপাতি। কথা বলার সময় নেই কারও। পার্ক বাজারের কামার ঝন্টু কর্মকার টিনিউজকে বলেন, কয়লা, লোহাসহ অন্য জিনিসপত্রের দাম বেশি, তবে ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে কিনতে চান না। সারাদিনে যা আয় হয় তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলে না। কোরবানির ঈদের সময় এ আয় বেড়ে যায় কয়েকগুণ। আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই সময়টার জন্য। শান্ত কর্মকার টিনিউজকে বলেন, আমাদের এই পেশা বাপ-দাদার পেশা। এই পেশা টিকিয়ে রাখার জন্য এ কাজ আমাদের করতে হয়। অনেকেই আবার এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। করোনা ভাইরাসের জন্য আমাদের দোকান দীর্ঘ ৪ মাস বন্ধ ছিল। কোন কাজ করতে পারি নাই। এখন ঈদের সময় আমরা ব্যস্ত সময় পাড় করছি সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করি। আমরা একেকটা পূণ্য বিক্রি করি। চাপাতি ১৫০০-১৮০০ টাকা, বটি ৫০০-৬০ টাকা, বড় ছুরি ৬০০-৭০০ টাকা, ছোট ছুরি ২০০-৩০০ টাকা, দা ৪০০-৫০০ টাকা।
জেলা শহরের আদালত পাড়া এলাকার শাওন মিয়া টিনিউজকে বলেন, কোরবানির গরু কাটার জন্য নতুন নতুন যন্ত্র প্রয়োজন হয়। এজন্য প্রতিবছরই যন্ত্র কিনতে হয়। এবারও চাপাতি ও ছুরি কিনেছি। এবার সব পন্যের দাম একটু বেশি যে ছুরি ১০০ টাকা দিয়ে কিনতাম তা এখন ২০০ টাকা হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ