শেষ মুর্হুতে টাঙ্গাইলে ঈদ মার্কেটে মানুষের ঢল

109

জাহিদ হাসান ॥
দুপুরের পর বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) কিছু সময়ের জন্য থমকে গিয়েছিল ঈদ মার্কেটের বেচাবিক্রি। বৃষ্টির পর টাঙ্গাইল শহরের সড়কে সড়কে তীব্র যানজটে নাকাল শহরবাসী। তবে বৈশাখের তপ্ত গরম ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল কয়েক পশলার বৃষ্টিতে। তীব্র গরম থেকে বাঁচতে শহরবাসীর অনেকে কেনাকাটা করতে এসেও বৃষ্টির পরশ গায়ে মেখেছেন। যারা বাসায় ছিলেন তারা কাঙ্খিত এই বৃষ্টি উপভোগ করেছেন বেশ ভালভাবেই। ঈদের কেনাকাটায় শামিল হতে অনেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই বের হয়েছেন। অন্যান্য দিনের মতো বেচাবিক্রিও ভাল হচ্ছিল। কিন্তু দুপুরে বৃষ্টির বাগড়ায় সাময়িক সময়ের জন্য স্থবির হয়ে পড়েছিল ঈদ কেনাকাটা। সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন স্বল্প পুঁজির ফুটপাথের ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে ফুটপাথের ক্রেতা-বিক্রেতাদের। অনেকে ত্রিপল ও পলিথিনের ছাউনি দিয়ে নতুন পোশাক-আশাক বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা করতে পারেনি। এছাড়া ক্রেতাদেরও বৃষ্টির পানিতে ভিজতে হয়েছে। এ কারণে সবচেয়ে বেশি অসুবিধা হয়েছিল ফুটপাথের বেচাবিক্রিতে। বিপণি বিতানগুলোর তো বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার নানা উপায় আছে। কিন্তু অবিরাম বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ফুটপাথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে বিকেলের মধ্যে আকাশের মেঘ কেটে ঝকঝকে রোদের দেখা মেলে ঢাকার আকাশে। এরপর বিকেল থেকে আবার জমতে শুরু করে কেনাকাটা। মধ্য দুপুরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিকেলের পর প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি লোকজন মার্কেটে এসেছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেটে উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরের ক্যাপসুলসহ ফুটপাথের অধিকাংশ দোকান বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া আজিজ প্লাজা মার্কেট ফুটপাথেও বেচাবিক্রি সামায়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে পড়েছিল। ফুটপাথের দোকানগুলোর একই অবস্থা। ক্যাপসুল মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় রাসেল, আহাদ নামে দুই হকারের সঙ্গে। তারা টিনিউজকে জানান, বৃষ্টির কারণে দুপুরের পর তাদের বেচাকেনায় একেবারে কমে যায়। ক্রেতাসমাগম হওয়ায় সন্ধ্যার পর আবার বেচাবিক্রি ভাল হয়েছে।
জানা গেছে, ঈদ কেনাকাটায় বৃষ্টির কারণে শহরবাসীর দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে। ঠিক তেমনি মার্কেট, শপিংমল এবং ফ্যাশন হাউজগুলোর বেচাকেনায়ও সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে স্বাস্থবিধি না মেনে অনেকে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে গাদাগাদি ঠাসাঠাসি করে দোকানগুলোতে আশ্রয় নিয়ে থাকে। এতে করোনা সংক্রমণরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। ফলে ঈদ মার্কেটে করোনা ঝুঁকি বাড়ছেই। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা টিনিউজকে বলেন, মার্কেটে ঘুরে ফিরে স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করা যায়। এটি একটি স্বাস্থ্যসম্মত মার্কেট। কিন্তু দুপুরের পর বৃষ্টির কারণে হুড়োহুড়ি করে সবাই মার্কেটের দোকানগুলোতে ঢুকে পড়ে। এতে করে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত থাকছে। যত যাই হোক ক্রেতাদের এ ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ থাকা উচিত।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ