সোমবার, সেপ্টেম্বর 21, 2020
Home এক্সক্লুসিভ শুধু নেই আর নেই মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

শুধু নেই আর নেই মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

মধুপুর সংবাদদাতা ॥
শুধু নেই আর নেই টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দুই মেডিকেল অফিসার এ হাসপাতালে যোগ দিয়েই বিনানুমতিতে অনুপস্থিত বহুদিন ধরে। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসারসহ বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ডেপুটেশনে পৃথক হাসপাতালে কর্মরত। এ হাসপাতালের চিকিৎসক হয়েও তারা স্টেশনে নেই। গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় ১০ মাস ধরে প্রসূতিসেবা নেই। নাক-কান-গলা বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট, চক্ষু, এনেসথেসিয়া, প্যাথলজির সহকারী সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদে কেউ নেই। প্রায় চার মাস ধরে বিকল এক্স-রে মেশিনের সুবিধা নেই। নার্সসহ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর বেশ কয়েকটি পদে জনবল নেই। পরিচ্ছন্ন কর্মী নেই। বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। টয়লেট-পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবহারের অবস্থা নেই। রোগীদের খাবারসহ সেবারও কোনো মান নেই। বিদ্যুতের লো-ভেল্টেজে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কাজের নিশ্চয়তা নেই। নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্স সুবিধায় আস্থা নেই। এতসব নাই নিয়ে চলছে হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম। সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপর টিআইবি’র সনাক ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে মতবিনিময় সভার পর্যালোচনায় আর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২১ চিকিৎসক পদের এ উপজেলা হাসপাতালে কাগজে-কলমে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ (ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও) ৭ জন চিকিৎসক থাকলেও বাস্তবে ওই সাত চিকিৎসকের সেবাও মিলছে না। ফলে উপজেলার তিন লক্ষাধিক জনগণ মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট কাজে একাধিকবার স্বীকৃতি পাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বেশ কিছুদিন ধরে চিকিৎসকসহ নানা সংকটে সেই সেবা নেই। অনৈতিক লেনদেনের চিত্রও উঠে এসেছে ওই সভায়। জরুরি বিভাগে টাকা দাবি করেন কর্তব্যরতরা। হাসপাতলের জরুরি বিভাগে পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন টুনিয়াবাড়ীর নূরুল ইসলাম। হায়দার আলী তালুকদার নামে একজন অভিযোগ করেছেন, অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পেতে গুনতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। ভর্তি রোগীদের নানা ভোগান্তির কথা বলেন হুমায়ুন কবির, মোর্শেদা, ময়নালসহ অনেকে। বিশুদ্ধ পানীয় জলের সমস্যার করুণ চিত্রও তুলে ধরেন একাধিক ব্যক্তি।
হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, ডা. সায়মা হাফিজ ও স্মৃতি মজুমদার নামে দু’জন  মেডিকেল অফিসার হাসপাতালে যোগ দিয়ে ছুটি নিয়ে পাঁচ বছর আগে স্টেশন ছেড়েছেন। অনুমতিহীন তাদের এ অনুপস্থিতি। পদত্যাগ না করায় তদস্থলে নতুন পদায়নে জটিলতার সৃষ্টি হয়। তবে তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রটি। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ডেন্টাল সার্জন তানজিবা মঞ্জুর গত ছয়-সাত বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেষণে গিয়ে সেখানে নিয়মিত হয়ে গেছেন। বিগত ২০১৫ সালের অক্টোবওে যোগদান করে চক্ষু বিষয়ের কনসালটেন্ট ডা. ফারহান জাহান প্রেষণে আছেন জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে। গত ২০১৫ সালের নভেম্বর থেকে মেডিকেল অফিসার ডা. আইরিন বিনতে সাত্তার একই জেলার সখীপুরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে কর্মরত। ওএসডি হয়ে ২০১৫ সালের জুলাই  থেকে ডিজি অফিসে ন্যস্ত হয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ডা. নন্দিতা সরকার। একই বছরের ২৩ ডিসেম্বও থেকে ডা. আইরিন জামানও প্রেষণে টাঙ্গাইলে আছেন। পদায়িত হয়ে প্রেষণে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত আছেন ডা. তানজিনা আফরিন খান। গত ২০১৫ সালের মার্চে যোগ দিয়ে ওইদিনই ডা. তাসলিমা ইসলাম রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেপুটেশন নিয়ে চলে গেছেন। ডা. সালেহ মোহাম্মদ হাসিবুল হাসান গত বছরের (জানুয়ারি ২০১৬) শুরুতে ও ডা. এনামুল হক নামে অপর চিকিৎসক গত ১ আগস্ট যোগদান করে ওইদিন থেকেই অনুপস্থিত। প্রশিক্ষণের জন্য ছুটি নিয়েছেন ডা. এনামুল এবং রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেষণ নিয়েছেন সালেহ মোহাম্মদ হাসিবুল হাসান। এদের অনেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ওইসব স্থানে স্থায়ী হয়ে গেছেন। তারপরও যারা এখনও ডেপুটেশনে অন্যত্র আছেন তারা বেতন-ভাতাসহ সবধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা এ হাসপাতালের নামে ভোগ করছেন, এলাকাবাসী তাদের সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালটির একমাত্র এক্স-রে মেশিনটি যান্ত্রিক জটিলতায় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে বিকল।
মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রফুল্ল কুমার সাহা সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। অনিয়মের ব্যাপারে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে লিখিত পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। লোকবল সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি টিনিউজকে আরও জানান, এ হাসপাতালে ৫ জন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নকর্মীর বিপরীতে আছে দুইজন। দ্রুত এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য লোকবল দরকার। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়গুলো যথারীতি বারবার অবহিত করে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ