শীর্ষ সন্ত্রাসী কোয়ার্টার রনি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার ॥ ২ দিনের রিমান্ডে

4

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী ও এমপি আমানুর রহমান খান রানার সহযোগী আতিকুর রহমান ওরফে কোয়ার্টার রনিকে (৩০) অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঢাকার নিউমার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আতিকুর রহমান ওরফে কোয়ার্টার রনি টাঙ্গাইল শহরের দেওলা এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ৬টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত রনি টাঙ্গাইলে কোয়ার্টার রনি হিসেবে পরিচিতি।
রোববার (৭ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওসি শ্যামল কুমার দত্ত টিনিউজকে জানান, গ্রেফতারকৃত রনিকে রোববার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ১০ দিনের রিমা- চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মনিরা সুলতানা দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ওসি শ্যামল কুমার দত্ত বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শুক্রবার ঢাকার নিউমার্কেট থানা পুলিশের সহযোগিতায় রনিকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে গত (৫ সেপ্টেম্বর) একটি অস্ত্র মামলা ছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ আরো ৫টি মামলা রয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ টিনিউজকে আরও জানায়, আতিকুর রহমান রনি কোয়ার্টার রনি নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল গেটে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদকদ্রব্যসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর আগে কোয়ার্টার রনি হাসপাতালের ভাণ্ডার রক্ষককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। সে সময় পুলিশ তাকে পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছিল। সে বিভিন্ন মামলার আসামী হয়েও টাঙ্গাইল শহরে ত্রাসের রাজক্ত কায়েম করে আসছিল।
উল্লেখ্য, গত (৫ সেপ্টেম্বর) এমপি রানার জামিন আদেশের দিন ধার্য ছিল। সেদিন তার জামিন হবে বলে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পক্ষের নেতাকর্মীরা এমপি রানার মুক্তির দাবিতে শহরের হাসপাতাল এলাকা দিয়ে আদালত চত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা এবং এক পর্যায়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। সেখানে এমপি রানার সমর্থকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একই সময় পুলিশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল এলাকার একটি দোকান থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিনসহ দুইজনকে আটক করে। পরবর্তীতে আরো নয়জনকে আটক করা হয়। পরদিন (৬ সেপ্টেম্বর) সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার জামিন আদেশকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে তার সমর্থকদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ বাদি হয়ে মোট ১০৪ জনকে আসামী করে মামলা দুটি দায়ের করে। এই অস্ত্র মামলায় কোয়ার্টার রনির নাম রয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ