শীত আসার শুরুতে আবহাওয়ার পরিবর্তনে টাঙ্গাইলে অসুস্থতা বাড়ছে

88

এম কবির ॥
উষ্ণ প্রকৃতির বিদায় ঘণ্টা বাজছে। শরৎ শেষের মিশ্র আবহাওয়া এখন। এই উষ্ণতা ছড়ানো সকাল, তো বৃষ্টিতে নাকাল দুপুর, শেষ রাতে আবার মৃদু শীতের পরশ। ঋতু পরিবর্তনের এ সময় মৌসুমি জ্বরজারি হচ্ছে অনেকের। মৌসুম পরিবর্তনের এ সময় হাঁচি–কাশি নতুন কিছু নয়, তবে ডেঙ্গু ও করোনাকালে থাকতে হবে সচেতন।

শরতের শেষ বেলায়ও হঠাৎ বৃষ্টি। টাঙ্গাইল শহর ছাড়লে আবার মৃদুমন্দ বাতাসে হালকা শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন যেন অনুভব করা যায়। দিনের বেলা গরমে নাকাল হলেও শেষ রাতে শীত শীত অনুভূত হতে শুরু করেছে। মৌসুম পরিবর্তনের এ সময় জ্বর কাশি-সর্দির প্রবণতা বাড়া নতুন কিছু নয়। প্রতিবছরই এমন হয়। তবে এখন বদলে গেছে প্রেক্ষাপট। ডেঙ্গু ও করোনাকালে জ্বর-কাশি মানেই বিভীষিকা। ওদিকে ডেঙ্গুর ভরা মৌসুম চলছে। আর ফ্লু তো আমাদের দেশের সুপরিচিত সমস্যা। তাই এ সময় জ্বরজারি হলে সব কারণই মাথায় রাখা প্রয়োজন।




এ সময় জ্বর হলে করোনার ভাবনাই ভাবতে হবে প্রথমে। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও নির্দেশনা। তবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। সাধারণ জ্বর-কাশির সঙ্গে করোনার পার্থক্যও জানা চাই। যদিও করোনা নানা ধরনের উপসর্গ, কখনো মৃদু বা প্রায় উপসর্গ ছাড়াও হতে পারে। তবু সাধারণ কিছু বিষয় জানা থাকা ভালো। সময়মতো করোনা শনাক্ত না হলে জটিলতা বাড়তে পারে আর চিকিৎসা পেতে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। আবার করোনার খুঁটিনাটি জানা না থাকলে মৃদু উপসর্গ নিয়ে রোগী পরিবারের সবাইকে আক্রান্ত করে ফেলতে পারেন।

করোনার লক্ষণ হিসেবে জ্বর-কাশি-গলাব্যথাকেই চিহ্নিত করা হয়ে থাকে সাধারণভাবে। শ্বাসকষ্ট একটি গুরুতর লক্ষণ, যা অন্যতম জটিলতার এক সংকেত। শ্বাসকষ্ট মানে যে কেবল শ্বাস নিতে বা ছাড়তে কষ্ট হওয়া, তা নয়। অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠার মানেও কিন্তু শ্বাসকষ্ট। করোনার জটিলতায় বুকে চাপ ধরে থাকা বা ক্রমাগত ব্যথা হওয়াও দেখা দিতে পারে গুরুতর লক্ষণ হিসেবে। এর বাইরেও কিছু লক্ষণ থাকে করোনা রোগীর। ঘ্রাণ কিংবা স্বাদের অনুভূতির পরিবর্তন অন্যতম। শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি, পাতলা পায়খানা হতে পারে। রোগীর চৈতন্যের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে (রোগী এলোমেলো কথা বলতে পারেন বা অসংলগ্ন আচরণ করতে পারেন)। তবে হাঁচি, নাক বন্ধ ফ্লুতে যত দেখা যায়, করোনায় তত নয়। আবার ডেঙ্গু জ্বরে প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে ফুসকুড়ি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। সাধারণ ফ্লুতে জ্বরের সঙ্গে নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি, গলাব্যথা, গলার গ্রন্থি ফুলে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়। লক্ষণ করোনার প্রায় কাছাকাছি। তাহলে কী করবেন?




পরীক্ষায় করোনা ধরা না পড়লেও, যদি অন্য লক্ষণ থাকে কিংবা জ্বর না সারে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দিয়ে থাকেন, যা দ্বারা করোনার সম্ভাব্যতা বোঝা যায়। জ্বর হলে কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছে নিন। কুসুম গরম পানিতে গোসলও করতে পারেন। প্যারাসিটামল সেবন করা যেতে পারে। ঠান্ডা-কাশি হলে অ্যান্টিহিস্টামিন–জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। ঘরে গরম পানি, চা, স্যুপ খেলে আরাম পাবেন গলাব্যথার সমস্যায়। হাত-পায়ের ব্যথা বা অন্য যেকোনো ব্যথা হলেও প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ব্যথানাশক সেবন করা যাবে না। অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারও এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, করোনা, ডেঙ্গু, মৌসুমি জ্বর- সবই ভাইরাসজনিত রোগ। অ্যান্টিবায়োটিক এসব রোগের চিকিৎসা নয়। তবে ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য কিছু ক্ষেত্রে এসব রোগীকেও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, কিন্তু নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্যান্য নানা ওষুধ সেবনের সিদ্ধান্ত নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সাধারণ লক্ষণ থাকলে দু-তিন দিন বাড়িতে নিজের লক্ষণগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। লিখে রাখতে পারেন তাপমাত্রা। তবে শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা বা চাপ, রোগীর মুখ-হাত নীল হয়ে যাওয়া, চৈতন্য কমে যাওয়া- এসব জটিল লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি করা যাবে না। বাড়িতে পালস অক্সিমিটার রাখুন, সেচুরেশন কমে যেতে দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যান।

 

ব্রেকিং নিউজঃ