শীতে খেজুর রসের অমৃত তৃপ্তি ॥ গ্রামেগঞ্জে ভীড়

78

ধনবাড়ী প্রতিনিধি ॥
প্রকৃতির পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগে চলছে শীতকাল। শীত এলে গ্রামেগঞ্জে পাওয়া যায় খেজুরের রস। সকাল বেলার ঠান্ডা, মিষ্টি খেজুরের রস যেন অমৃত এক তৃপ্তি। মধুবৃক্ষের (খেজুর গাছ) সুমধুর রস প্রাণকে করে সতেজ। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল লিখেছেন- নতুন খেজুর রস এনেছি মেটে কলস ভরে, ও আমার রস-পিয়াসি রসিক জনের তরে…। এক সময় গ্রামগঞ্জের ঐতিহ্য ছিল খেজুরের রস। কালের বিবর্তনে তা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায় এক খেজুর রস বিক্রেতাকে। তাকে ঘিরে রসের তৃপ্তি মেটাতে মানুষের অনেক ভীড়। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে খাচ্ছে আবার কেউ পরিবারের জন্য নিয়েও যাচ্ছে। খেজুরের রস খেতে আসা আব্দুর রহিম টিনিউজকে জানান, অনেক দিন পর খেজুরের রস পেলাম। দেখেও ভালো লাগছে। প্রতি গ্লাস ১০ টাকা করে বিক্রি করছে রস বিক্রেতা। আমি ২০ টাকায় দুই গ্লাস খেয়ে নিলাম। আছমা বেগম নামে নামের অপর ক্রেতা টিনিউজকে বলেন, ছোট বাচ্চাদের জন্য চার গ্লাস ৪০ টাকায় নিয়ে যাচ্ছি। বাচ্চাদের খুবই পছন্দ এ রস। আব্দুল কাদের নামের এক ব্যক্তি টিনিউজকে বলেন, এক সময় প্রতিটি গ্রামেই খেজুরের গাছ ছিল। কালের বিবর্তনে এখন তা হারিয়ে যাচ্ছে। তেমনটা চোখে পড়ে না। আমার বাড়ীতেও খেজুর গাছ ছিল। গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে রস জাল দিয়ে গুড় তৈরী করে শীতের পিঠা বানাতো হত। খেতেও মজা লাগতো। দিনদিন লোকজন বেড়ে যাওয়ায় জমিজমা ভাগ হয়ে কমে জমি যাচ্ছে। যার যার মতো বাড়ীঘর করায় খেজুরের গাছও হারিয়ে যেতে বসেছে।
ধনবাড়ী বাসষ্ট্যান্ডে কথা হয় রস বিক্রি করতে আসার পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলা সদরের কাবিল উদ্দিন (৫০) এর সাথে। তিনি টিনিউজকে বলেন, আমি ২৫ বছর যাবত খেজুরের রস বিক্রি করে সংসার চালাই। জামালপুরের বগাবাড়ী এলাকার গাছিদের নিকট থেকে রস কিনে এনে আশপাশের এলাকাগুলোতে বিক্রি করি। এক সময় গ্রাম এলাকায় অনেক খেজুরের গাছ ছিল। এখন তেমন একটা দেখা যায় না। তবে, এ রসের চাহিদা অনেক। রস পেলেই সবাই আগ্রহ নিয়ে খেতে চায় এবং বাড়ীর জন্য কিনে নিয়ে যায়।

ব্রেকিং নিউজঃ