শীতের আচরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে বসন্ত এসে গেছে

85

হাসান সিকদার ॥
বসন্ত কি এসে গেল? এবারের শীতের আচরণ দেখে অনেকটা তাই মনে হচ্ছে। বিশেষ করে মাঘের শেষে যেভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে তাতে অনেকের মনেই এই ধরনের প্রশ্ন উঠছে। আবহাওয়াবিদরা জানায়, এবারের পৌষে এর চেয়ে আর বেশি শীতের দেখা নাও মিলতে পারে। মাঘের শেষের দিকে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা থাকলে তাও টাঙ্গাইলে প্রভাব পড়বে না। ফলে পৌষের শীতের আশা এখানেই ইতি টানতে হচ্ছে।
তবে তারা বলছেন, পৌষে শীত নেই বলে শীতে বিদায় ঘণ্টা এখনই বেজে যাচ্ছে তা বলা ঠিক হবে না। বিশেষ করে এখনও শীতের কিছু দিন বাকি রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে শীত ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। প্রকৃতিতে এখন চলছে মাঘ মাস। মাস শেষ হতে আর মাত্র বাকি পাঁচদিন। এই বাকি দিনগুলোতে জোরালো শীত নামার আভাস নেই। মাঘের শুরু থেকেও শীতের হিসাব বেশ গড়মিল রয়েছে। বলতে গেলে এবারের এই মাসে শীত বেশ ফাঁকি দিয়েই চলেছে। দুই দফায় এক সপ্তাহের মতো শৈত্যপ্রবাহ ছিল এই মাসে। এর মধ্যে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের অনুভূতি থাকলে অন্য অঞ্চলে এর কোন প্রভাব ছিল না। টাঙ্গাইলে এবার মাঘের শীতের তেমন প্রভাবই পড়েনি। হাতে কলমে ৭/৮ দিন শীতের অনুভূতি থাকলেও বাকি সময় পার হয়েছে শীত ছাড়াই বা শীতের আমেজে।
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এই সময়ে টাঙ্গাইলে যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে তা অস্বাভাবিক। কিন্তু এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা শুধু এবার নয় অতীতেও বহুবার হয়েছে। তবে চার বছর পর ফের আবার শীতের আবহাওয়ায় বিরূপ ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি এমন আবহাওয়া ছিল। এবারের পৌষের আবহাওয়ায় বেশি হেরফের হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাকাশে সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে পৃথিবীর অক্ষের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়। নাতিশীতোষ্ণ অক্ষাংশসমূহে চারটি ঋতু শনাক্ত করা যায়। তা হলো বসন্ত, গ্রীষ্ম, হেমন্ত ও শীত। ক্রান্তীয় অঞ্চলসমূহের রয়েছে দুটি ঋতু শুষ্ক ও আর্দ্র। বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে ৬টি ঋতু বিরাজমান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি ঋতু হলো গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত ও বসন্ত। এখানে শীত ঋতুর গুরুত্ব রয়েছে অনেক। কারণ শীতের আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে শীতকালীন ফসলের। যা এদেশে অন্য সময়ে আবহাওয়া কখনও উৎপন্ন হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতে যে বিরূপ আবহাওয়া শুরু হয়েছে এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে ফসল উৎপাদনের ওপর। এছাড়া এ কারণে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি প্রকোপ বাড়ে সঠিক মাত্রা শীতের অনুভূতি না থাকলে। ফলে শীতকালে শীতের আবশ্যকতা গুরুতপূর্ণ বলেও তারা মনে করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ