শীতের আগমনে বাসাইলে লেপ তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

74

অর্ণব আল আমিন, বাসাইল ॥
আসছে শীত, বাড়ছে লেপ-তোষকের কদর। তাই বাসাইলে লেপ-তোষকের কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। এর পাশাপাশি ব্যাবসায়ীরাও দোকান সাজিয়ে বিক্রি শুরু করেছেন শীতের গরম কাপড়। ভোরবেলায় কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজ মাঠ ও গাছপালা। শীত মোকাবিলায় পল্লী গ্রামের মানুষ আগেই লেপ-তোষক জোগাড় শুরু করেছেন। তাই শীতকে সামনে রেখে কারিগরদের এখন যেন দম ফেলার বিরাম নেই।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে লেপ-তোষকের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। মালিক-শ্রমিক সবাই লেপ-তোষক তৈরি, সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আকার ও তুলা ভেদে বিভিন্ন দামে লেপ-তোষক বিক্রি করা হচ্ছে। এ বছর বিভিন্ন কাচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একেকটি লেপ-তোষক বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। বছরের এ সময় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। বছরের ৮ মাস অলস সময় পার করলেও শীতের চার মাস লেপ-তোষক কারিগরদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লেপ তৈরির কাজ।
আখি আক্তার নামের এক লেপ ক্রেতা টিনিউজকে জানান, শীত বাড়তে শুরু করেছে। তাই আগে ভাগেই লেপ তৈরি করতে এসেছি। এ বছর দামটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। রিপন নামে আরেক ক্রেতা টিনিউজকে জানান, দুই বছর আগে একটা লেপ তৈরি করেছিলাম। সেটা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সেজন্য নতুন করে লেপ তৈরি করতে এসেছি। তবে দাম অনেক বেশি বলছে কারিগরা। ৫ হাতের লেপের দাম বলছে ১ হাজার টাকা। দুই বছর আগে এই পণ্যটির দাম ছিলো ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।
বাসাইল বাজারের সুভাস বেডিং স্টোরের সুভাস চন্দ্র সাহা টিনিউজকে জানান, আধুনিক যন্ত্রে উৎপাদিত কম্বল, মেট্রেস সহজে পাওয়া যাওয়ায় বর্তমানে লেপ-তোষকের চাহিদা কমে গেছে। লেপ-তোষক তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে। একটি লেপ-তোষক বিক্রি করে তাদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ হয়। লাভ কম হলেও কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা এখন খুশি। বিলপাড়া বাজারের রুবেল রিমন বেডিং হাউজের লেপ তোষক তৈরির কারিগর হালিম ও রাসেদ টিনিউজকে বলেন, প্রতিবছরই শীতের সময় আমরা লেপ তোষক তৈরির কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করি। তবে চলতি মৌসুমে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় স্বাভাবিক ভাবেই লেপ-তোষক তৈরিতে খরচ বেড়ে গেছে। সব কিছুর দাম বাড়লেও আমাদের দাম বাড়েনি। কাপড় ও তুলার মান বুঝেই লেপ-তোষকের দাম নির্ধারণ করা হয়। ৪-৫ হাত লেপের দাম পড়ছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা। আর তোষক তৈরিতে দাম পড়ছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তবে এবারে প্রতিগজ কাপড়ে ১০ থেকে পনের টাকা দাম বেড়েছে। তুলায় বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। গার্মেন্টের সাদা ঝুট, ফোমের কাটা অংশ সবকিছুই কিনতে হচ্ছে বেশি দাম দিয়ে। এ বছর শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোষকের চাহিদা খানিকটা বাড়তে পারে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ