রবিবার, সেপ্টেম্বর 20, 2020
Home এক্সক্লুসিভ শিবির ক্যাডার বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল কো-অর্ডিনেটর!

শিবির ক্যাডার বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল কো-অর্ডিনেটর!

স্টাফ রিপোর্টার ॥
কেপিআই জোন বঙ্গবন্ধু সেতুতে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার এবং দেশবিরোধী পোস্টার ছাপানো মামলার অন্যতম আসামী মুকিতুল কবীর বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। কর্মরত থেকেই তিনি দেশবিরোধী কর্মকান্ড ও নিষিদ্ধ ফেসবুক ‘বাঁশের কেল্লা” আইডি পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেতু সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা।
জানা গেছে, মুকিতুল কবীর ফরিদপুর জেলার শিবিরের একজন অন্যতম ক্যাডার। তার মালিকানাধীন আলহেরা প্রেসে ২০১৩ সালে দেশবিরোধী পোস্টার ছাপানোর দায়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতারসহ প্রেস সিলগালা করে দেয়। পরবর্তিতে কয়েকমাস পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে আসেন। পরে পুলিশের নজর এড়াতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) প্রধান প্রকৌশলী কবীর আহম্মেদ ও দি ইবনে সিনা ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুল আলম খানের সুপারিশে অভিজ্ঞতা ছাড়াই বঙ্গবন্ধু সেতু সহকারি হিসাব রক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। বিবিএ প্রধান প্রকৌশলীর কবীর আহম্মেদের শালিকার ছেলে হওয়ায় তাকে পরবর্তিতে টোল কো-অর্ডিনেটর হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরপর থেকেই মুকিতুল কবীর বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে দেখা গেছে, অন্যতম যুদ্ধাপরাধী দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মুক্তির দাবী জানিয়ে একটা লেখা পোষ্ট করেছেন। সেখানে লেখা আছে ‘আল্লামা সাঈদীকে নিয়ে তালবাহানা দেশের ইসলাম প্রিয় জনতা বরদাশত করবে না, বিনা শর্তে মুক্তি দিতে হবে”। তার ফেসবুক ওয়ালজুড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশবিরোধী প্রচার-প্রচারনা চালিয়েছেন। এছাড়াও তিনি নিষিদ্ধ ফেসবুক বাঁশের কেল্লার এডমিন এবং তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে বাঁশের কেল্লার পোষ্ট শেয়ার করছেন। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব শিবিরের ঘাঁটি হওয়ায় সেখানে তিনি স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের সাথে তাদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। বিগত ইউপি নির্বাচনে জামায়াত-শিবিরের প্রার্থীর হয়ে প্রচার-প্রচারনা চালিয়েছেন তিনি। সেতুতে কর্মরত সিকিউরিটিদের চাকরির ভয় দেখিয়ে জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।
মুকিতুল কবীর ছাড়াও শিবিরের একাধিক কর্মী ও সিরাজগঞ্জে ট্রেন পোড়ানোর মামলার আসামীরা বিভিন্ন পদে বঙ্গবন্ধু সেতুতে কর্মরত আছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক টোল কর্মকর্তা টিনিউজকে জানান, মুকিতুল কবীর ফরিদপুরে একজন শিবিরের সক্রিয় কর্মী। দেশ বিরোধী পোস্টার ছাপানোর দায়ে তার বিরুদ্ধে ফরিদপুর থানায় মামলাও আছে। বিবিএর প্রধান প্রকৌশলীর ভাগিনা হওয়ায় অভিজ্ঞতা ছাড়াই তাকে এখানে চাকরি দেয়া হয়েছে। কেপিআই এলাকাতে বসে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। চাকরির ভয়ে তারা কেউ প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছাবুর রহমান টিনিউজকে জানান, মুকিতুল কবীরের বিরুদ্ধে ফরিদপুর সদর থানায় একটি মামলা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। তিনি জামায়াত-শিবিরের কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত আছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাও জানিয়েছেন। তার বিষয়ে জানতে বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের বিবিএর কর্মকর্তাদের মুকিতুলের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ