শাহআলমের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন সখীপুর সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়ন

74

সখীপুর প্রতিনিধি ॥
শাহ আলম ওরফে বাদশা খান। একটু পাগল টাইপের। বাবা নাই। ওর মা এক প্রকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। বউও আছে, সেও অনেকটা পাগলি টাইপের। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার শহরের প্রাণকেন্দ্র মোখতার ফোয়ারা চত্বরে বিনা বেতনে ট্রাফিকের মতই কাজ করেন দীর্ঘদিন ধরে। সময় সুযোগ পেলে কারো দোকানে পানি আনা, কারো দোকান ঝাড়ু দেওয়ার কাজও করে। এভাবে সারাদিন খুব ব্যস্ত থাকতো। দিন শেষে কেউ দশ, কেউ বিশ টাকা দিতো তা দিয়ে চলতো তাদের তিনজনের সংসার।
শাহ আলমের বাড়ি সখীপুর সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে আড়াইপাড়া গ্রামে হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাকে সকাল-সন্ধ্যা যাতায়াত করতে হতো। প্রতিদিনের মতো (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর অটো গাড়িতে বাড়ি ফেরার সময় কচুয়া পেট্রোল পাম্প পার হয়ে ছোট ব্রিজের কাছে অটো গাড়ি উল্টে তার পা ভেঙে যায়। সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পূনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। সহায় সম্বলহীন দরিদ্র ছেলেটির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার মতো ক্ষমতা তাঁর পরিবারের নেই।
“মানুষ মানুষের জন্য” এই কথা ভেবে শাহ আলমের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন সখীপুর উপজেলা সিএনজি অটোরিক্সা ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন। সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল সিকদার অসহায় শাহ আলমের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন। জানা যায়, শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তারা সাধ্যমত অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন ।
সখীপুর উপজেলা সিএনজি অটোরিক্সা ও অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল সিকদার বলেন, আমাদের সকলের একটু একটু সহযোগিতায় হয়তো সে আবারও আমাদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে পারবে। আমি ও আমার সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমান হান্নান সংগঠনের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ প্রদান করেছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকব। বিত্তশালী সহৃদয়বান সকলকে শাহ আলমের চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও সখীপুরের কৃতিসন্তান তুহিন সিদ্দিকী বরাবরই খবর পেলে সকল রোগীদের খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। শাহ আলমের বেলায়ও তিনি অকৃত্রিম সহযোগিতা করছেন। নুরুল সিকদার তুহিন সিদ্দিকীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ