শরতের শুভ্র কাশফুলে ছেয়ে গেছে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চল

110

হাসান সিকদার ॥
শরতের শুভ্র কাশফুলে ছেয়ে গেছে টাঙ্গাইলের চরাঞ্চল। অভুতপুর্ব দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইল জেলার নদ-নদী তীরে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে। এ অপার সৌন্দর্য প্রকৃতিপ্রেমীদের পর্যটনের খোরাক মেটানোর পাশাপাশি হয়ে উঠেছে চরবাসীর জীবিকার উৎস।

বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস। নীল আকাশে খন্ড খন্ড সাদা মেঘ। ধুধু বালু চরে সাদা কাশফুলের বিছানা। এ যেন প্রকৃতির এক অপরুপ লীলা। দূর থেকে দেখলে যে কারো মন ছুটে যাবে সুন্দরের কাছে। সড়কের দু’পাশে শরতের প্রতিচ্ছবি কাশফুল ফুটে নান্দনিক সৌন্দর্যে রুপ নিয়েছে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো। এ দৃশ্য উপভোগ করতে ছুটে আসছে দূর-দূরান্তের মানুষ। আঞ্চলিক সড়কের দু’পাশে এমন সৌন্দর্য মুগ্ধ করে পথচারীদের। সৌন্দর্য বর্ধন ও নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে সোলার প্যানেল। ক্ষণিকের জন্য শহুরে কোলাহল ছেড়ে নদী, বালুচর, সাদা মেঘ, কাশফুলের এ মিতালী দেখে অভিভুত প্রকৃতিপ্রেমিরা। বিনা যত্নে গজিয়ে ওঠা এ কাশবনের খড়েরও চাহিদা রয়েছে। এ থেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে চরের মানুষ।



কাঁচা কাশগাছ গরুর খাবার। পাকা কাশের খড় দিয়ে হয় ঘরের ছাউনি। এছাড়া, এর নানা ওষুধি গুণ রয়েছে। অবসরে ঘুরে বেড়াতে শেষ বিকেলের আলোয়, অনেকেই আসছেন টাঙ্গাইলের যমুনা, ধলেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলের কাশবনের শ্বেতশুদ্ধ প্রকৃতির সান্নিধ্যে। বিভিন্ন স্থান থেকে বেশকয়েকটি টিমসহ বন্ধু বান্ধাব ও পরিবার নিয়ে অনেকেই ঘুরে আসা, তাদের মুখে গল্প শুনে এবং সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের মাধ্যমে জেনে প্রতিদিনই অনেক মানুষ ঘুরতে বা দেখতে যাচ্ছেন এই কাশফুল। ঘুরতে গিয়ে প্রত্যেকেই যেন নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে। ঘুরতে আসা অনেকেই টিনিউজকে জানান, কালের পরিক্রমা ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারাতে বসেছে শরতের কাশফুল। একটা সময় বিভিন্ন এলাকায় কাশবনের কাশফুলগুলো দোল খেতো মৃদু বাতাসে।



কাশবনে ঘুরতে আসা সদ্য বিবাহিত আলমগীর হোসেন ও মুনিয়া দম্পতি টিনিউজকে জানান, শহরের কোলাহল আর ঘরবন্দি থাকতে থাকতে মনমানসিকতা কেমন যেন হয়ে গেছে। তাই দূরত্ব হলেও বিকেলটা ভালোই কেটেছে। এখানে না এলে বোঝা যাবে না। অন্যরকম অনুভূতি। মন ভরে ওঠে, মুগ্ধ হয়ে যায়। কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় আর আবেশে মনটাও যেন নরম হয়ে যায়।

ব্রেকিং নিউজঃ