লকডাউনে টাঙ্গাইলের বাজারগুলোতে প্রচন্ড ভীড় ॥ বাড়তি দামে বিক্রি

101

হাসান সিকদার ॥
করোনাভাইরাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সারাদেশসহ টাঙ্গাইল জেলায় সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে লকডাউন শুরু হচ্ছে। সরকারীভাবে এমন ঘোষনার পর থেকেই নিত্যপণ্য কেনার হিড়িক পড়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে। আপাতত ৭ দিনের টানা এই লকডাউনের সময় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এই আশঙ্কায় সাধারণ জনগন তাদের বিভিন্ন নিত্যপণ্যগুলো ক্রয় করছেন। এজন্য শহর ও উপজেলা শহরগুলোর সকল প্রকার বাজারগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। উপচেপড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে সর্বত্রই। এরই সুবিধা নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। তারা বেশী দামে জিনিসপত্র বিক্রি করছেন বলে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।
এদিকে রোজার ১০ আগেই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে খ্যাত ১৭টি ভোগ্যপণ্যের প্রায় অধিকাংশই এর দাম বেড়ে গেছে। বেড়ে যাওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে- চাল, ডাল, আটা, ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, ডিম, মুরগি, মসলাপাতিসহ সব ধরনের মাছ-মাংস। আলু, পেঁয়াজের দামের গতিও উর্দ্ধমুখী। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে আগে কিছুটা টাঙ্গাইলের অধিকাংশ বাজারে ক্রেতার চাপ কিছুটা কম ছিল। কিন্তু লকডাউনের খবরে বাজারগুলো মানুষের ভীড় প্রচন্ড বেড়েছে। এ কারণে বেশির ভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সরু চালের দাম কমলেও কিছুটা বেড়েছে মোটা চালের দাম। আবার খোলা সয়াবিন তেল ও বোতলজাত তেলের দামও বেড়েছে। রসুনের দাম কমলেও বেড়েছে আদার।
জানা গেছে, রোজার প্রায় দুমাস আগে এবার অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করে। সবচেয়ে বেশি কারসাজি চলে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে। এছাড়া চিনি নিয়েও কারসাজি করা হয়। এ কারণে বাজারে এ দুটি পণ্য বছরের অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে এখন বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার দোহাই, সয়াবিন ও পামওয়েলের উৎপাদন কম এ ধরনের কয়েকটি যুক্তি দাঁড় করিয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য ট্রেড এ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে দুমাস আগে প্রস্তাব করেন আমদানিকারকরা। আমদানিকারকদের প্রস্তাব মেনে নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুদফায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে বাজার সামাল দেয়ার কৌশল গ্রহণ করে। কিন্তু এরপরও সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম মাসখানেক আগে বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ কারণে রোজা সামনে রেখে আগের বেড়ে যাওয়া বেশি দামে ভোগ্যপণ্য কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
এছাড়া করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে ও লকডাউনের খবরে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। যদিও কাঁচাবাজার এবং ওষুধের দোকান খোলা রাখার ব্যাপারে আগেই সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। রোজা সামনে রেখে মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাকাটা নির্বিঘœ করতে ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী ট্রাক, লরি, ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনকে দ্রুত নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। এ কারণে পণ্যবাহী ট্রাক ফেরি পারাপার, পাম্প থেকে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহের মতো সুবিধা পাবে। শুধু তাই নয়, রোজা সামনে রেখে পণ্যবাহী ট্রাক যেন চাঁদাবাজির শিকার না হয় সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জিনিসপত্রের দাম কমানোর জন্য এসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুরগির দাম। পাকিস্তানী কক প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২৮০-৩৩০, ব্রয়লার মুরগি ১৬০-১৭০, বড় কক ২৩০-২৫০ টাকা প্রতিকেজি, গরু ৫৮০-৬০০ খাসি ৮০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি। রোজা সামনে রেখে দাম আরও বাড়তে পারে। পার্ক বাজারে ক্রয় করছিলেন আব্দুল কায়েস মিয়া। তিনি টিনিউজকে বলেন, মুরগির দাম কয়েক মাস ধরে বেশি। এখনও সেই দামে বিক্রি হচ্ছে। মুরগির পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও কয়েক মাস আগে বেড়ে গেছে। মনে হয় দেখার কেউ নেই। ওই বাজারের মুদিপণ্যের ব্যবসায়ী করিম খান টিনিউকে বলেন, দাম যা বাড়ার তা আগেই বেড়ে গেছে। নতুন করে আর বাড়ার কিছু নেই। এখন মজুদকৃত পণ্য বাজারে আসছে। এ কারণে বাজারে পণ্য সরবরাহ বেড়েছে।
বাজারে প্রতিকেজি সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৫৮-৬৮, স্বর্ণা ও চায়না ইরি খ্যাত মোটা চাল ৪৬-৫০, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল ৫০-৫৬, আটা প্যাকেট ৩০-৩২ ভোজ্যতেল খোলা ১২২-১২৫, সয়াবিন পাঁচ লিটারের বোতল ৬৩০-৬৫০, সয়াবিন বোতল এক লিটার ১৩০-১৪০, পামওয়েল লুজ প্রতিলিটার ১০৮-১১০, পামওয়েল সুপার প্রতিলিটার ১১২-১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া মসুর ডাল ৬৫-১২০, ছোলা ৭৫-৮০, পেঁয়াজ দেশী ৩২-৩৫, পেঁয়াজ আমদানি ২৮-৩৫, রসুন ১০০-১২০, আদা ৮০-১৪০, চিনি খোলা ৬৮-৭০, ফার্মের ডিম প্রতিহালি ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দাম কমে আলু ১৬-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। শীতের সবজির সরবরাহ কমে আসায় বেড়েছে সবজির দাম। এছাড়া রোজা সামনে রেখে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে দেশী মাছ।

 

ব্রেকিং নিউজঃ