যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

101

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শুরু হলো টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর উপর ডাবল লাইনের বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নির্মাণ কাজ।
রবিবার (২৯ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল সাড়ে ১০ টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিফলক উন্মোচন করেছেন। গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানের অপর প্রান্তে সিরাজগঞ্জ জেলায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনসহ রেলপথ মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।
যমুনা নদীর ওপরে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের এই রেললাইন সেতু। নির্মিত হলে এটি হবে দেশের বৃহত্তম রেলসেতু। এতে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে এই রেলসেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৪ সালের আগস্টে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু রেলসেতু হবে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্রাকসহ প্রায় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সেতুর উভয় পাশে মোট প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। রেলসেতুটি ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাক হওয়ায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলোর ক্রসিংজনিত কারণে আগের মতো স্টেশনগুলোতে অপেক্ষা করতে হবে না। এ সেতুতে গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন স্থাপন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর নামে রেলসেতু নির্মাণে জাপানের আর্থিক সংস্থা জাইকা ১২ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে। বাকি চার হাজার ৬৩১ কোটি টাকা জোগান দিবে সরকার। বঙ্গবন্ধু রেলসেতুতে ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ রেললাইন থাকবে। দুই প্রান্তে আধা কিলোমিটার করে ভায়াডাক্ট এবং সাড়ে সাত কিলোমিটার সংযোগ লাইন নির্মাণ করা হবে। লুপ ও সাইডিংসহ প্রায় ৩০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। যমুনা নদীর উপর ১৯৯৮ সালে বহুমুখী সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে সড়কের পাশাপাশি সিঙ্গেল লাইন রেলপথ রয়েছে। এ কারণে সেতু পারাপারে ট্রেনগুলোকে ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নতুন রেলসেতু নির্মাণের পর ক্রসিংয়ের অপেক্ষা থাকবে না। ট্রেনের রানিং টাইম ২০ মিনিট কমবে। ব্রডগেজ ট্রেন ১২০ কিলোমিটার, মিটারগেজ ট্রেন ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে। দিনে ৮৮টি ট্রেন চলতে পারবে। বঙ্গবন্ধু রেলসেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের রেল যোগাযোগে হবে নতুন মাত্রা। এতে কমবে ভোগান্তি। বাঁচবে সময়। ঢাকার সাথে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে আশীর্বাদ হিসেবে ধরা দিবে এ রেলসেতু।
এ সময় বঙ্গবন্ধু সেতুর পুর্ব প্রান্ত টাঙ্গাইলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের এমপি, ছানোয়ার হোসেন এমপি, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী এমপি, তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, মমতা হেনা লাভলী এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনিসহ বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

ব্রেকিং নিউজঃ