যমুনার ভাঙণে নিঃস্ব পরিবার নামমাত্র সাহায্য নয়, স্থায়ী পাকা বাঁধ চায়

169

কাজল আর্য ॥
নামমাত্র আর্থিক সাহায্য নয়, চাই স্থায়ী বাঁধ। যাতে আমরা সন্তান পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারি। আর প্রতিশ্রুতি চাই না, চাই বাস্তবায়ন। রাক্ষুসী যমুনার তীরবর্তী ভাঙণের শিকার অসহায় মানুষ করুণ আর্তনাদের সাথে এ কথাগুলো টিনিউজকে বলেছেন। বর্ষা এলেই যমুনা নদীর তীরবর্তী টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও ভূঞাপুর উপজেলার বেশকয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের জীবনে নেমে আসে ভিবীষিকা। তারা থাকেন চরম আতংকে, কখন যেন বাড়িঘর চলে যায় আগ্রাসী যমুনার পেটে। ঠাঁই নিতে হয় খোলা আকাশের নিচে বা অন্যের জায়গায় আশ্রিত। এবারো সেই দৃশ্যের ব্যতিক্রম নয়।

ভাঙণ রোধে সাময়িকভাবে ফেলা বালুর বস্তা কাজে দেয় না। এছাড়া ব্লক দিয়ে বাঁধানো নদীর পাড় টেইসই হয় না। দেবে গিয়ে আবার ভাঙণ ধরে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের বেলটিয়া গ্রামের আছিয়া বেগম টিনিউজকে বলেন, নদী সব কিছু কাইরা নিছে। ৪ বার বাড়ি ভাঙছি। মর্জিনা বেগম টিনিউজকে বলেন, আমাগো এখন যাবার জায়গা নাই। আমরা ভাসমান। সরকার থিকা কিছুই পাই না।

আলীপুর গ্রামের মামুন মিয়া মাস্টার টিনিউজকে বলেন, আমাদের গ্রামের সিংহভাগই নদীতে চলে গেছে। গ্রামের দাখিল মাদ্রাসা, মসজিদ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈদগাহ মাঠ ও বাজার সবই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমার বাড়িসহ এবারো শতাধিক বাড়ি ভেঙেছে। আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। ভাঙনের শিকার আজিজ মিয়া নামের টিনিউজকে বলেন, আমাগো পাকা ঘরবাড়ি ও টয়লেট সব ছিল। আমাগো অবস্থা এতো খারাপ আছিল না। বাঁইচা আছি এটাই কষ্টের। রফিকুল ইসলাম সিকদার টিনিউজকে বলেন, সরকার থেকে অনুদানের টাকা দেওয়া হয়। যাদের বাড়ি ভাঙে নাই এমন লোকও সাহায্য পায়। ক্ষোভের কন্ঠে স্থানীয় অনেকেই টিনিউজকে বলেন, আপনারা’ত প্রতিবারই লেইখা নিয়া যাইন। আমাগো কোন লাব অয় না তো। আমরা ছিলাম এলাকার বড় গিরস্থ। কিন্তু যমুনা নদীই আমাদের সর্বনাশ করে দিছে, আজ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব। অনেকেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরপৌলী, কাকুয়া, ধুলবাড়ী, পানাকুড়া, হুগড়ার কাজিবাজার, গন্দপপুর, চরগোপাল, কালিহাতী উপজেলার গড়িলাবাড়ি, বেলটিয়া, আলীপুর, শ্যামশৈল, বিনোদ লুহুরিয়া, ভৈরববাড়ী, বেনুকুর্শিয়া এবং ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, গাবসারা, অর্জুনা নিকরাইল ও অলোয়া ইউনিয়নের বহু গ্রামের মানুষ প্রতিবছরই নদী ভাঙনের শিকার হন। এছাড়া নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলায়ও হয় নদী ভাঙন। ভুক্তভোগীরা জানান নদীর পানির তীব্র ¯্রােত, নদী থেকে প্রভাবশালীদের অবৈধ বালু উত্তোলন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিই এরজন্য দায়ী।

গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য নজরুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, এই এলাকার মানুষকে বাঁচালে হলে দ্রুত স্থায়ী বাঁধই নির্মাণ করতে হবে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ) এর বঙ্গবন্ধু সেতুতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পী টিনিউজকে বলেন, সেতু তীরবর্তী আমাদের এরিয়ায় ব্লক দিয়ে বাঁধ করা হয়েছে। সেতুর ৬ কিলোমিটারের মধ্যে নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন হয় কি না এমন প্রশ্নে তিনি অস্বীকার করেছেন।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন জেলার কয়েকটি উপজেলায় প্রতিবছরই অসংখ্য মানুষ নদী ভাঙনের শিকার হন। টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী, নাগরপুর এবং ভূঞাপুরে নদী ভাঙ্গন রোধে গাইড বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি মেগা প্রকল্পের প্রপোজাল তৈরি করা হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। করোনার কারনে গত দুই বছর অগ্রগতি হয়নি।
টাঙ্গাইল সদর আসনের এমপি ছানোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, শুধুমাত্র চরপৌলী গ্রামেই কয়েকশ’ ভিটে বাড়ি নদীতে চলে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থদের এবার ২০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান দেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙণ রোধে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার ১৫.৩ কিলোমিটার বাঁধের ব্যবস্থা হবে।

 

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ