সোমবার, সেপ্টেম্বর 21, 2020
Home টাঙ্গাইল মুরাদ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন

মুরাদ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন

জাহিদ হাসান ॥
অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনা ও গুজবের অবসান ঘটিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়নপত্র ক্রয় করলেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জননেতা মুরাদ সিদ্দিকী। সোমবার (২৬ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনে রির্টানিং কর্মকর্তা শহীদুল ইসলামের কাছ থেকে মুরাদ সিদ্দিকীর পক্ষে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেন তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান মনি আরজুসহ অন্যান্য কর্মীসমর্থক। এর আগে মুরাদ সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র ক্রয়ের জন্য কর্মীসমর্থক ও ভক্তদের দেয়া টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দেয়া হয়।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোল বাজার অনেক আগেই টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের জনগনের মাঝে আলোচনার বিষয় ছিল নির্বাচনে কোন দিকে যাবেন মুরাদ সিদ্দিকী। কোন দলীয় মনোনয়ন পাবেন নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। নির্বাচনের আমেজ শুরু হওয়ার পর সে আলোচনা আরও সরব হয়ে উঠে। চায়ের আড্ডা থেকে সর্বত্র আলোচনা ছিল মুরাদ সিদ্দিকীকে নিয়ে। অনেকেই বলতে শোনা যায়, তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন নিবেন। আবার অনেকেই বলতে শোনা যায় মুরাদ সিদ্দিকী তার বড় ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করবেন। তবে এসব বিষয়ে কখনও মুখ খোলেননি মুরাদ সিদ্দিকী। তবে, তিনি সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করেছেন। ইতিমধ্যে তার বড় ভাই বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী তাকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তাব দেন। কিন্তু মুরাদ সিদ্দিকী সে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
এসব কিছুর মাঝেও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। তিনি এ আসনে শক্ত একজন প্রার্থী। নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন। সাধারণ জনগণের মাঝে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তিনবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েও জনগনের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে তার বিজয় নিশ্চিত বলে জানান তার কর্মীসমর্থকরা। তারা আরও বলেন, মুরাদ সিদ্দিকী ১৯৯৮ সাল থেকে নির্বাচনের মাঠে রয়েছে। তিনবার নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এবার ভোটাররা তাকে জয়যুক্ত করে জনগনের সেবা করার সুযোগ দিবে। মুরাদ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে বিগত ২০০১ সালে ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তারপর থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কর্মকান্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। কয়েক বছর যাবত তিনি আওয়ামী লীগে যোগদানের জোর চেষ্টা করেছেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকটি বড় বড় নির্বাচনী সমাবেশও করেছেন একক ব্যক্তি উদ্যোগে। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলে মুরাদ সিদ্দিকী সকল জল্পনা-কল্পনা ও গুজবের অবসান ঘটালেন।

ব্রেকিং নিউজঃ